
শেষ আপডেট: 25 February 2023 11:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "লাল পাহাড়ির দ্যাশে যা, রাঙামাটির দ্যাশে যা" - এই বিখ্যাত গানটি শোনেননি, এমন মানুষ এই বঙ্গদেশে নিতান্তই হাতেগোনা। কিন্তু এই বিখ্যাত গানটির লেখক-সুরকার কে, তা জানতেন না অনেকেই। তিনি বাঁকুড়ার (Bankura) ভূমিপুত্র, বিশিষ্ট লোকসঙ্গীত শিল্পী (folk singer) সুভাষ চক্রবর্তী (Subhash Chakraborty)। একপ্রকার অন্তরালে থেকেই সারাজীবন ধরে সৃষ্টি করেছেন একের পর এক কালজয়ী গান। আজ, শনিবার তিনি ইহলোক ত্যাগ (death) করলেন সেই অন্তরালে থেকেই।
এই বিখ্যাত শিল্পীর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে লোকসঙ্গীত জগতে। মৃত্যুকালে সুভাষবাবুর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১১ টা ৫৫ নাগাদ কলকাতার (Kolkata) একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান তিনি। এদিন দুপুরে তাঁর মেয়ে সঙ্গীতশিল্পী অর্পিতা চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বাবার মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করেন। লেখেন 'শেষ'।
জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরেই তিনি কলকাতার ঐ বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে ছিলেন। বয়সজনিত কিছু অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সেটাই মাঝে বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। টানা ভেন্টিলেশনে থাকার পর আর বেশিদিন কষ্ট পেলেন না তিনি। নিজের বাঁকুড়া জেলা, রাঙামাটির দেশ, লোকসঙ্গীতকে ফেলে রেখে চলে গেলেন বহু দূরে। তাঁর মৃত্যু সংবাদ বাঁকুড়ায় আসার পর থেকেই শোকে মূহ্যমান জেলার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ।
দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে অজস্র যুগান্তকারী গানের জন্ম তাঁর হাত দিয়ে। পেয়েছেন বহু সরকারি-বেসরকারি সম্মান। কাজের ডাক এসেছে বাইরে থেকেও। কিন্তু নিজের জন্মভূমি বাঁকুড়ার প্রতি তাঁর টান কোনওদিন কমেনি। একসময় তাঁর 'বাঁকুড়ার মাটিকে পেন্নাম করি দিনে দুপুরে…' গানটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল। তেমনই তাঁর জীবনের শেষ গান সেই জন্মভূমি বাঁকুড়াকে নিয়েই। হাসপাতালে ভর্তির দিনকয়েক আগেই নিজের লেখা ও সুরে রেকর্ড করেন 'বাঁকড়ি দেশের মানুষ আমি গাইবো ঝুমুর গান'। নিজের জীবনদীপ নেভার আগে এভাবেই গানে গানে তিনি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে গেছেন জন্মভূমি বাঁকুড়াকে।
বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী রবি বাগদী বলেন, "অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী সুভাষদা আর নেই ভাবতেই খারাপ লাগছে। বসে বসেই তাৎক্ষনিকভাবে গান লেখা থেকে সুর দেওয়া সব করতে পারতেন। দীর্ঘ ৪০-৪২ বছর একসঙ্গে কাজ করেছি। সম্প্রতি শুশুনিয়াতে একটি শ্যুটিংয়ে আমাদের শেষ দেখা। সঙ্গীতের মাধ্যমে বাঁকুড়া জেলাকে সারা দেশে উঁচু জায়গায় তিনি তুলে ধরেছিলেন।"
শোকবার্তা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি লেখেন, "বিশিষ্ট লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার সুভাষ চক্রবর্তীর প্রয়াণে আমি গভীর শোকপ্রকাশ করছি। তিনি আজ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ের বাসিন্দা সুভাষবাবু ঐতিহ্যময় লোকসঙ্গীতকে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে সংগীত জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি ওঁর পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।"
কলকাতা পুরসভার ডাম্পার পিষে দিল পুলিশ কর্মীর স্ত্রীকে, দেহ ছেঁচড়ে নিয়ে গেল ১০০ মিটার