
শেষ আপডেট: 30 May 2023 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর সচেতনতায় বিপদ কাটল শিশুর। প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবার শিশু ও মায়েদের খাবার দেওয়ার (Anganwari Meal) আগে টিফিন বাক্স পরিষ্কার কিনা পরীক্ষা করছিলেন খণ্ডঘোষ (Burdwan) ব্লকের আড়িন শিশু আলয়ের কর্মী চৈতালী দাস। তখনই তিনি দেখেন দু'বছরের একটি শিশুর জন্য খাবার নিতে আসা বাক্সে রয়েছে নানা পোকামাকড়। এছাড়াও রয়েছে টিকটিকি ও আরশোলার বিষ্ঠা।
সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হন তিনি। ভাল করে সেই বাক্স পরিষ্কার করে তবেই খাবার দেন। তিনি বলেন, “বাক্সটির যা অবস্থা ছিল তাতে ওই বাক্স থেকে খাবার খেলে ওইটুকু শিশুর বিষক্রিয়া নিশ্চিত ছিল। ভাগ্যিস খাবার দেওয়ার আগে চোখে পড়েছিল। বিষক্রিয়া হলেই তখন আইসিডিএস কর্মী ও সহায়িকাদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠত।”
মাস আটেক আগে জামালপুর ব্লকের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খাবারের সাপ পাওয়া যায়। ওই খাবার খেয়ে বেশ কয়েকটি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের ভর্তি করা হয় জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। এই ঘটনায় ব্যাপক হৈচৈ পড়ে। সাসপেন্ড করা হয় কেন্দ্রের কর্মীদের। কয়েকদিন আগে খণ্ডঘোষ ব্লকের একটি আইসিডিএস সেন্টারের খাবারে টিকটিকি মেলে। তাই নিয়েও শোরগোল পড়েছিল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আইসিডিএস কর্মী ও সহায়িকাদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে বারবার। এবার দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। আইসিডিএস কর্মীর সচেতনতায় বিষক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা পেল একটি দুধের শিশু।
এক অভিভাবিকা উষা সই বলেন, “আমরা এসে সব দেখলাম। কিছু বিষক্রিয়া হলে কর্মীর দোষ হত।” আর এক অভিভাবিকা প্রিয়া রায় বলেন, “ওই কর্মীর ধন্যবাদ প্রাপ্য। এছাড়াও শিশুদের মায়েদেরও সচেতন হতে হবে।”
খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ বলেন, “চৈতালী দাসকে কুর্নিশ জানাই। উনি আজ সচেতন না হলে বড় বিপদ হতে পারত। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া বলেন, “প্রতিটি মা ও তার পরিবারকে সচেতন হতে হবে। না হলে সব সময় কর্মীদের দোষ দিলে হবে না।” চৈতালী দাসকে তিনিও ধন্যবাদ জানান।
গ্রেফতার পরিচালক পীযূষ সাহা, হিরো বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ