আলাপন মামলায় অস্বস্তিতে ক্যাট, এত তাড়াহুড়ো কেন, কেন্দ্রকে প্রশ্ন হাইকোর্টের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যসচিব তথা বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Alapan Bandyopadhyay) বিরুদ্ধে করা মামলা সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (ক্যাট)-এর কলকাতা বেঞ্চ থেকে দিল্লিতে সরে
শেষ আপডেট: 27 October 2021 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যসচিব তথা বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Alapan Bandyopadhyay) বিরুদ্ধে করা মামলা সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (ক্যাট)-এর কলকাতা বেঞ্চ থেকে দিল্লিতে সরে গেছে। এই মামলা স্থানান্তরের বিরোধিতা করেই কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন আলাপনবাবু। বুধবার দুপুরে এই মামলার শুনানি ছিল হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে। শুনানির সময় বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য জানতে চান এত তাড়াতাড়ি মামলা সরানো হল কেন। কেন্দ্রের হলফনামা পেশ করার কথাও বলা হয়েছে। শুনানি আজকের মতো শেষ হয়ে গেছে। রায়দান স্থগিত রেখেছে হাইকোর্ট।
এই বছরের ২৮ মে কলাইকুণ্ডা বিমানঘাঁটিতে ইয়াস পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনার জন্য বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই বৈঠকে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট তুলে দিয়ে এবং তাঁর অনুমতি নিয়ে তৎকালীন মুখ্যসচিব আলাপনবাবুকে সঙ্গে নিয়ে দিঘার প্রশাসনিক বৈঠকে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে সশরীরে হাজির না থাকার জন্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা আইনে কেন তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে না-লিখিত ভাবে আলাপনবাবুর কাছে জবাব চায় কেন্দ্র। কেন্দ্রের চিঠির উত্তর দিলেও গত জুন মাসে কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ মন্ত্রক চিঠি পাঠিয়ে জানায়, অনুসন্ধান কমিটির কাছে সশরীরে হাজিরা অথবা লিখিত ভাবে নিজের বক্তব্য জানাতে হবে আলাপনবাবুকে। ১৮ অক্টোবর প্রাথমিক পর্যায়ের শুনানির জন্য তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়। যদিও এই শুনানির দিন পিছিয়ে ২ নভেম্বর করা হয়েছে। এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়া খারিজ করার জন্য ক্যাটের কলকাতা বেঞ্চে মামলা করেন আলাপনবাবু। যার শুনানি ছিল ২২ অক্টোবর বেলা ৩টে নাগাদ। এই মামলাই কলকাতা থেকে দিল্লিতে সরানোর আবেদন করেছিল কর্মীবর্গ দফতর। সেই আবেদন গৃহীত হয়।
এদিন শুনানির সময় আলাপনবাবুর আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান সওয়াল করেন, প্রাক্তন মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কমিটি তৈরি হয়েছে। ডিসিপ্লিনারি কমিটি এখনও তদন্ত শেষ করতে পারেনি। এর মধ্যেই মামলাটি কলকাতার বেঞ্চ থেকে দিল্লির প্রিন্সিপাল বেঞ্চে সরে গেছে। আইনজীবীর প্রশ্ন, এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যাতে মামলাটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দরকার পড়ল। কলকাতা থেকে দিল্লিতে মামলা সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানালেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এবং সেটা গ্রহণও হয়ে গেল।
বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য কেন্দ্রের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, “এত তাড়াহুড়ো কেন? আপনার এত আর্জেন্সি কি ট্রান্সফারের জন্য? মাত্র একদিন সময় দিতে পারলেন না! ক্যাটের চেয়ারম্যান কিভাবে জানলেন সব ডকুমেন্ট দিল্লিতেই থাকবে। “ মামলা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কিনা তা ২ নভেম্বরের আগেই জানাবে হাইকোর্ট। ২ নভেম্বর আলাপনবাবুকে কর্মিবর্গ বিভাগ নোটিশ দিয়ে বক্তব্য জানাতে তলব করেছে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'