
শেষ আপডেট: 12 February 2024 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করাতে এসে কপালে জুটল মার! বড়সড় অভিযোগ ঘিরে আলোড়ন জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তির। অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় তিনি কর্তব্যরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ধূপগুড়ি জলঢাকা এলাকার বাসিন্দা দুখাই সরকার রবিবার রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত দুটো নাগাদ প্রচণ্ড পেট ব্যথা শুরু হয় বছর ৫৫ র এই ব্যবসায়ীর। তাঁকে ধূপগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। পরিবারের লোকেরা রবিবার ভোর রাতে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসেন তাঁকে। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে রোগীকে নিয়ে যান। দুখাইবাবুর বাড়ি লোকের অভিযোগ, ওই সময় চিকিৎসক অপ্রকৃতিস্থ ছিলেন। তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। প্রেসক্রিপশনে লেখা শুরু করে টেবিলের ওপর লিখতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাড়ির লোক প্রতিবাদ করায় চিকিৎসক সিকিউরিটি গার্ডদের ডাক দেন।
তাঁরা বলেন, "সিকিউরিটি গার্ডরা এসে আমাদের লোকদের ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করা শুরু করে দেয়। ছেলেকে মারছে দেখে দুখাইবাবুর স্ত্রী এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। শাড়ি ধরে টান মারে এক পুরুষ সিকিউরিটি গার্ড। ওই ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করছিলেন তার বড় ছেলে। তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। জোর করে একটি মোবাইলের ভিডিও ডিলিট করিয়ে দেওয়া হয়। তারপরেই রোগীকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ থেকে শিলিগুড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।"
সোমবার জলপাইগুড়ির সমাজকর্মী অঙ্কুর দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন দুখাইবাবুর পরিজনরা৷ এরপর সকলে মিলে সোমবার দুপুরে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না এমএসভিপি। একরকম বাধ্য হয়ে রোগীর পরিবার অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার মলয় দে'র সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জমা দেন। পরে মলয়বাবু বলেন, "একদম অনভিপ্রেত ঘটনা। আমরা অভিযোগ পেয়েছি। পুরো ঘটনার তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"