
শেষ আপডেট: 25 June 2023 02:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: অফিস কলিগের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েন চলছিল গত কয়েকদিন ধরেই। মনমরা হয়ে বসে থাকতেন। নিজের মা’কেও সে কথা জানিয়েছিলেন। ছেলের মনখারাপ বুঝতে পেরে তাঁকে না জানিয়েছিলেন দেখা করতে চলে এসেছিলেন মা-বাবা। ভেবেছিলেন কয়েকদিনের জন্য ছেলেকে নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে রাখবেন। কিন্তু ছেলেকে নিতে এসে দেখলেন, ততক্ষণে সব শেষ! সিলিং থেকে তখন ঝুলছে যুবকের নিথর দেহ।
ঘটনাটি ঘটেছে ব্যান্ডেলের ২ নম্বর গান্ধী কলোনি এলাকায়। মৃতের নাম রঞ্জিত মালিক (২৮)। একটি অনলাইন বিপনীর সেলসে চাকরি করতেন যুবক। এমনিতে তাঁর বাড়ি দাদপুরের বাদিনান এলাকায়। বছর দুয়েক আগে ব্যান্ডেলে বাড়ি ভাড়া নেন। মৃত যুবকের বাবা অনিল মালিক জানান, এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ছেলের। তাঁর সঙ্গেই কোনও সমস্যা হচ্ছিল। জানা গিয়েছে, একই অফিসে চাকরি করতেন তাঁরা। এমনকী রঞ্জিতের ভাড়া বাড়িতে আসা যাওয়াও ছিল তাঁর। সেই ভাড়া বাড়ির ঘরের দেওয়ালে রঞ্জিত আর তাঁর প্রেমিকার অজস্র ছবি কোলাজ করে টাঙানো রয়েছে।
অনিলবাবু বলেন, ‘ছেলে ভালই মাইনে পেত। কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ওর মা’কে বলছিল, প্রেমিকার সঙ্গে নাকি কিছু সমস্যা চলছে। কী হয়েছে তাও বলেনি। ছেলের মন খারাপ বুঝতে পেরে আমরা ব্যান্ডেলে আসি। সে কথা ছেলেকে জানাইওনি। রঞ্জিতের কাজের জন্য বাড়িতে থাকার ঠিক থাকে না। শ্রীরামপুর, ডানকুনি-সহ বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। আজ বাড়িতে আছে কিনা জানতে ফোন করি। ফোন ধরেনি। বেশ কয়েকবার ফোন করেও না পেয়ে বাড়িওয়ালাকে বলি একবার দেখতে। বাড়িওয়ালা বলেন, দরজা বন্ধ। ছেলেকে বাড়ি নিয়ে যেতে এসেছিলাম। কী যে হয়ে গেল!’
জানা গিয়েছে, ভিতর থেকে দরজা বন্ধ দেখে পুলিশে খবর দেন বাড়িওয়ালারা। এরপর পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভাঙতেই দেখে, ভিতরে হুক্কার পাইপ, বেস, মদের বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। আর সেই যুবকের নিথর দেহ ঝুলছে ঘরের সিলিং থেকে। পুলিশের অনুমান, গলার ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে সেই যুবক। এরপর চুঁচুড়া থানার পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠায়।
একাকীত্ব আয়ু কমিয়ে দিতে পারে ১৫ বছর! কী কী প্রভাব ফেলে শরীরে-মনে