দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : মনুয়া ও অজিতের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় শোনার পরেই আদালত চত্বরে হতাশা ও ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অনুপম সিংহের পরিবার। বৃহস্পতিবার অনুপমকে সিংহ হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী মনুয়া ও মনুয়ার প্রেমিক অজিতকে দোষী সাব্যস্ত করে বারাসত ফাস্ট ট্র্যাক ফোর্থ কোর্টের বিচারক। তারপর থেকেই জোরদার হয়েছিল দুজনের ফাঁসির দাবি। কিন্তু বিচারক এই মামলায় দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেওয়ায় আদালত চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন অনুপমের মা- বাবা- দিদি- বোনেরা।
দীর্ঘ দু বছর ধরে অপেক্ষা করেছেন অনুপমের বাবা-মা জগদীশ সিংহ ও কল্পনা সিংহ। ছেলের খুনিরা সাজা পাবে। সেই অপেক্ষা। গতকাল বারাসত কোর্টের বিচারক মনুয়া ও অজিতকে দোষী সাব্যস্ত করার পরেই তারা চেয়েছিলেন ফাঁসির সাজা শোনানো হোক মনুয়া ও অজিতকে। কল্পনাদেবী বলেছিলেন, “ছেলের বিয়ে দিয়ে মানুষ ঘরে লক্ষ্মী আনে। আমার ঘরে সব শেষ করে দিল সেই বউ। ওর ফাঁসির সাজা শোনার জন্য অপেক্ষা করছি আমি।” গোটা রাত সেই অপেক্ষাতে কাটিয়েই শুক্রবার সকাল সকাল আদালতে এসেছিলেন তিনি। আসেন তাঁর স্বামী ও কন্যারাও। আসেন অনুপমের অন্য স্বজন-বন্ধুরাও।
বিচারক দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনানোর পরেই কান্নাকাটি শুরু করে দেন অনুপমের মা বোনেরা। বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে প্রাথমিক ভাবে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার ব্যাপারেও মনস্থ করতে পারেননি। কল্পনাদেবী বলতে থাকেন, “আমার ছেলের খুনের বিচার চেয়েছিলাম আমরা, কিন্তু বিচার পেলাম না।” কাঁদতে কাঁদতে প্রায় মূর্ছা যান তিনি।
পরে অবশ্য তাঁদের আইনজীবী সুব্রতকুমার বসু জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সুবিচার চাইবেন তাঁরা।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/news-west-bengal-life-sentence-to-manua-and-ajit-at-barasat-court/