দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি : একসময় পরিচারিকার কাজ করে দিন গুজরান হত। বয়স বেড়েছে। শরীর সাথ দেয় না আর। তাই কাজ ছাড়তে হয়েছে। পেট চলবে কী করে, এখন সারাদিন তাড়া করে এই চিন্তা। সরকারের নানা ভাতা আছে শুনতে পান। কিন্তু এখনও কোনটার সুলুকসন্ধান জানেন না কল্পনা ঘটক।
একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাপসী দাসও। বয়স বাড়তেই কাজের শক্তি ফুরিয়েছে। তাই রোজগার নেই আর। রয়ে গেছে পেট চালানোর ভাবনা।
একসময় রিক্সা চালিয়ে জীবিকা চালাতেন সঞ্জয় মালিক। নিজের, পরিবারের। এখন বয়সের ভারে অশক্ত পা দুটো দিয়ে আর চাপ দিতে পারেন না প্যাডেলে। ফলে ঘরবন্দি তিনিও। তাঁদের মতো অশক্ত বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য সরকারি নানা ভাতা আছে, শুনতে পান, কিন্তু কল্পনার মতো তা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে তাপসী ও সঞ্জয়েরও।
মানবিক মুখ নিয়ে এঁদেরই পাশে দাঁড়ালো চুঁচুড়ার সংস্থা আরোগ্য। ‘মানবিক’ ভাতা চালু করে মাসে মাসে তাঁদের হাতে ছ’শো টাকা করে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। এরজন্য প্রায় ৭০ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জন্য তৈরি হয়েছে পরিচয়পত্র। সেই পরিচয়পত্র দেখালেই প্রতি মাসের পাঁচ তারিখ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ভাতার টাকা।
মানবিকের ভাবনা যাঁর, সেই ইন্দ্রজিৎ দত্তই আরোগ্যর কর্ণধার। তিনি বলেন, “যাদের কেউ দেখার নেই, কাজ করতে পারেন না, আগে এমন অসহায় মানুষদের চাল দেওয়া হত। কিছু টাকাও দেওয়া হত, তবে তা মাঝে মধ্যে। আরোগ্যর সদস্যরা বসে ঠিক করেন এই সব মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে আরও দৃঢ়ভাবে। তখনই ‘মানবিক’ সিদ্ধান্ত হয়।”
তিনি জানান, আপাতত ৭০ জনকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য বাছাই করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। অর্থের অভাবে পড়াশোনা করতে পারছে না এমন ছাত্রছাত্রীদেরও ‘মানবিক’ এর আওতায় এনেছেন তাঁরা।
আরোগ্যর এই সিদ্ধান্ত যেন আলোর দিশা দেখলেন বহু অন্ধকারের পথযাত্রী। ভাতা পেয়ে খুশি তাপসী দাস বললেন, “এই টাকায় দু বেলা দু মুঠো ভাততো জুটবে। আর তো কিছু চাওয়ার নেই।” একই অনুভূতি দেখা গেল বাকিদের চোখে মুখেও।
এই মুহূর্তে আরোগ্যর সদস্য সংখ্যা প্রায় সাতশো জন। তারমধ্যে সাড়ে তিনশো জন সক্রিয় সদস্য। প্রত্যেক সদস্যের মাসিক চাঁদার টাকাতেই শুরু হল ‘মানবিক’ ভাতা দেওয়ার এই প্রয়াস।