শেষ আপডেট: 14 November 2019 09:32
১৮৬৮ তে ঐতিহ্যবাহী রসগোল্লার পাশাপাশি স্পঞ্জ রসগোল্লাও তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁকে রসগোল্লার জনক বলে চিহ্নিত করা হলেও কোনও কোনও ইতিহাসবিদ অবশ্য বলেন, রসগোল্লার আদি উৎপত্তিস্থল নাকি বর্তমান বাংলাদেশের বরিশাল। পর্তুগিজদের সময় পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার ময়রারা ছানা, চিনি, দুধ ও সুজি দিয়ে একধরনের গোলাকার মিষ্টি তৈরি করতেন যা ক্ষীরমোহন বা রসগোল্লা নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে তাঁদের বংশধররাই ছড়িয়ে পড়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায়।
তা সে যাই হোক, বাঙালি কিন্তু রসগোল্লার জনক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে নবীনচন্দ্র দাসকেই। পরবর্তীতে ১৯৩০ সালে, নবীনচন্দ্রের পুত্র কৃষ্ণচন্দ্র দাস ভ্যাকুয়াম প্যাকিং প্রবর্তন করে ধরে ফেলেন রসগোল্লার বিরাট বাজার। কলকাতার রসগোল্লা পৌঁছে যায় বিশ্বের দরবারে। একটা জাতির আইডেনটিটির সঙ্গে জড়িয়ে যায় একটা মিষ্টির নাম। কিন্তু এর উৎপত্তি নিয়ে বারবারই ওড়িশার সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে বাংলা।
https://www.youtube.com/watch?v=MWSL-a4SAV8&feature=youtu.be
২০১৫ সালে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রসগোল্লার ভৌগোলিক নির্দেশিকার (জিআই) জন্য আবেদন করে। স্পষ্ট করে এটাও উল্লেখ করা হয় যে ওড়িশার সঙ্গে কোনও দ্বন্দ্ব নয়, আবেদন শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক নির্দেশিকার জন্য। সারা দুনিয়া জানে রসগোল্লা বাংলার। এ নিয়ে মতভেদ থাকা উচিৎ নয়। ১৪ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে, ভারতের জিআই রেজিস্ট্রি রাজ্যের সেই আবেদন মঞ্জুর করে। সেই থেকে রসগোল্লার জন্মদিন পালন শুরু হয়ে গেছে গোটা রাজ্য জুড়ে।
রসগোল্লা আমাদেরই, এই গর্বের অভিব্যক্তি প্রকাশ শুরু হয়ে গেছে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই। জেলায় জেলায় চলছে রসগোল্লা উৎসব। যাঁরা দাম দিয়ে কিনে খেতে পারবেন না, তাঁদেরও এই উৎসবে সামিল করার জন্য রাস্তায় নেমে পড়েছেন মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। দেদার চলছে রসগোল্লা বিলি। রাস্তায় নেমে ১০ হাজার রসগোল্লা বিলি করলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের মিষ্টি বিক্রেতারা। হুগলিতে বিলি হল ২৫ হাজার রসগোল্লা। পথ চলতি মানুষ, বিশেষত কচিকাঁচাদের ডেকে রসগোল্লা খাওয়ানো হল বোলপুর শহরে। রসগোল্লা খাওয়ানোয় মাতলেন পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের মিষ্টি ব্যবসায়ীরাও।
অনেক শ্রম, অনেক লড়াই, অনেক ভাললাগা আর ভালবাসা যে জড়িয়ে রয়েছে রসগোল্লার সঙ্গে।