যদি লগ্নভ্রষ্টা হয় কনে! তাই স্বামীর শেষকৃত্য পিছিয়ে দিলেন হবু শাশুড়ি
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : স্বামীর মরদেহ দাহ করলেই নিয়ম মেনে করতে হবে অশৌচপালন। হবু পুত্রবধূর মুখের দিকে তাকিয়ে তাই স্বামীর শেষকৃত্য পিছিয়ে দিলেন রেখা মণ্ডল। বুধবার বিয়ে করে বউকে ঘরে নিয়ে আসবে ছেলে। তারপরেই আচার মেনে হবে অসিতবরণ মণ্ড
শেষ আপডেট: 10 December 2019 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : স্বামীর মরদেহ দাহ করলেই নিয়ম মেনে করতে হবে অশৌচপালন। হবু পুত্রবধূর মুখের দিকে তাকিয়ে তাই স্বামীর শেষকৃত্য পিছিয়ে দিলেন রেখা মণ্ডল। বুধবার বিয়ে করে বউকে ঘরে নিয়ে আসবে ছেলে। তারপরেই আচার মেনে হবে অসিতবরণ মণ্ডলের শেষকৃত্য। শোক আর হাহাকার চেপেই রেখাদেবীর পাশে দাঁড়াল গোটা মণ্ডল পরিবার। পাত্র পক্ষের এমন দৃঢ়তায় বাক্যহারা কনের পরিবার।
বুধবার বিয়ে বাদুড়িয়ার উত্তর দিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণেন্দু মণ্ডলের। উৎসবের সাজে তাই সেজে উঠেছে গোটা বাড়ি। সোমবার থেকেই অতিথি অভ্যাগতদের ভিড়। খাওয়াদাওয়া-হইচই। মঙ্গলবার ভোররাতে হঠাৎ বজ্রপাত। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বাড়ির কর্তা কৃষ্ণেন্দুর বাবা অসিতবরণ মণ্ডল (৬৫)। শোকে দিশাহারা হয়ে পড়ে গোটা পরিবার। ছেলের বিয়ের আগের দিন এমন অভাবনীয় পরিস্থিতিতে পড়ার কথা স্বপ্নেও ভাবেননি কেউ।

শোকের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে অসিতবরণবাবুর স্ত্রী রেখাদেবী সিদ্ধান্ত নেন, নির্দিষ্ট দিনেই হবে ছেলের বিয়ে। তাই শেষকৃত্য স্থগিত রাখেন স্বামীর। তিনি বলেন, “মেয়েটা তো কোনও দোষ করেনি। তাহলে ওর দিকে কেন আঙুল তুলবে কেউ? ও আমার ঘরের বউ হতে যাচ্ছে। ওকে ঘরে এনে তবেই আমার স্বামীর শেষকৃত্য করে অশৌচপালন করব। এতে উনিও ওপর থেকে আমাদের আশীর্বাদ করবেন। একজন নারী হয়ে আরেক নারীর সম্মান বাঁচানো আমার কর্তব্য। আমার স্বামীর শেষকৃত্য যদি দু’দিন পিছিয়েও যায় তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই।”
পাত্র কৃষ্ণেন্দু ব্যাঙ্কের চাকুরে। তবে তাদের গোটা পরিবার এলাকায় শিক্ষক পরিবার হিসেবেই পরিচিত। তাঁদের এমন সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা গ্রামের মানুষ। আর ঘটনায় বাকরূদ্ধ পাত্রীর বাবা-মা। এমন পরিস্থিতিতে এ ভাবেও ভাবা যায়!