দ্য ওয়াল ব্যুরো, দার্জিলিং : বিবৃতি দিয়ে পাহাড়ের স্ব-শাসন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানকে স্বাগত জানালেন বিমল গুরুং শিবিরের নেতা রোশন গিরি। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে এটা কি আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত ?
২০১৭ সালে পৃথক রাজ্যের দাবিতে পাহাড়ে নতুন করে আন্দোলন শুরু করে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় লাগাতার বনধ। পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পাহাড়ের জনজীবন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজ্য উদ্যোগী হতেই শুরু হয় বিক্ষিপ্ত হিংসা। পুলিশের উপর আক্রমণ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ। ১৩ই অক্টোবর গুরুং বাহিনীর খোঁজে পাতলেবাসের নিম্বু বস্তিতে অভিযান চালাতে গিয়ে গুলিতে মারা যান রাজ্য পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর অমিতাভ মালিক। এরপর খেকেই বেপাত্তা হয়ে যান মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং ও রোশন গিরি।
সম্প্রতি দার্জিলিং ম্যালে নেতাজি জন্ম জয়ন্তী পালনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, লোকসভা নির্বাচনের পর জিটিএ চুক্তি খতিয়ে দেখা হবে। এবং পাহাড়ের মানুষের উন্নয়নের জন্য যদি আরও বেশি কোনও ক্ষমতা দেওয়ার প্রয়োজন হয় তা নিয়েও ভাবা হবে। পাশাপাশি পাহাড়ের ১১ টি জনজাতিকে উপজাতি স্বীকৃতি দিতে তালবাহানা নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
এরপরেই শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রাক্তণ সাধারণ সম্পাদক তথা গুরুং শিবিরের নেতা রোশন গিরি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী জিটিএ চুক্তি খতিয়ে দেখার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাকে স্বাগত জানাচ্ছি। পাহাড়ে ১৯০৭ সাল থেকেই পৃথক রাজ্যের দাবি উঠে এসেছে। বিভিন্ন সময় আধা শাসিত স্বশাসিত পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে এই দাবি পূরণের চেষ্টা করা হলেও তা পাহাড়ের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সমর্থ হয়নি। তাই মুখ্যমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাকে আমরা স্বাগত জানাই। তিনি চাইলে আলোচনায় বসতেও আমাদের আপত্তি নেই।”
গত দু’বছর ধরে একাধিকবার আড়াল থেকে মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারকে তোপ দেগেছেন এই দুই নেতা। সম্প্রতি অবস্থান বদলে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করাকে ভিন্ন ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। চাপের মুখে গুরুং শিবির রাজ্য সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করতে চাইছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।