দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : কুলতলির গড়ানকাঠি। বুধবার রাতভর সেখানে কেটে সাফ করা হয়েছে ম্যানগ্রোভ জঙ্গল, এই খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোর হতেই এলাকার মানুষ ছুটে যান মাতলা নদীর ধারে। ততক্ষণে ধ্বংস হয়ে গেছে প্রায় বিঘেখানিক জমির ম্যানগ্রোভ। যারা গাছ কেটে সাফ করছিল, মানুষের প্রতিবাদের মুখে পড়ে তারা তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।
কুলতলি থানার ৪ নম্বর গড়ানকাঠি এলাকায় মাতলা নদীর ধারে গাছ কাটা হচ্ছে বলে বুধবার রাতেই খবর পেয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। আজ সকাল হতেই গাছ বাঁচাতে ছুটে যান তাঁরা। গ্রামবাসীরা বলেন, মাছের ভেড়ি তৈরির জন্যই কেটে ফেলা হয়েছে প্রায় এক বিঘা এলাকার ম্যানগ্রোভ। শাসকদলের মদতেই এ কাজ হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। গ্রামবাসী ধনঞ্জয় দাস, যশোমতী দাস, শ্যামলী ঘোষরা বলেন, “মাতলা নদী ধারে জঙ্গল কেটে মাছের ভেড়ি তৈরি করার চেষ্টা করছে ওরা। আমরা গাছ কাটতে বাধা দেওয়ায় ওরা আমাদের প্রাণে মারার হুমকি দেয়। তখন পুলিশ ও বনদফতরে খবর দিই। শাসকদলের মদতেই এসব হচ্ছে।”
শাসকদলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন স্থানীয় তৃণমূল যুব সভাপতি গণেশ মণ্ডল। তিনি বলেন, “আমাদের দলের কেউ এ কাজের সঙ্গে জড়িত নয়। দুষ্কৃতীরা এসব কাজ করছে। সুন্দরবনকে বাঁচাতে গেলে ম্যানগ্রোভের জঙ্গল বাঁচাতেই হবে।” কুলতলি পঞ্চায়েত সমিতির বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ দিবাকর নস্কর বলেন, “আমরা পুরো ঘটনা পুলিশ ও বনদফতরকে জানিয়েছি। দ্রুত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে পুলিশকে।”
বনদফতরের এক আধিকারিক জানান, প্রায় এক বিঘে জমির উপর ভেড়ি তৈরির চেষ্টা হচ্ছিল। সকালে খবর পেয়ে বন দফতরের কর্মীরা পৌঁছনোর আগেই ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় একশো গাছ কাটা হয়ে যায়। পুলিশ ও বন দফতরের লোকজন সেখানে যাওয়ার আগেই গা ঢাকা দেয় দুষ্কৃতীরা।