দ্য ওয়াল ব্যুরো : দার্জিলিংয়ে ভোট ১৮ এপ্রিল। তার আগে প্রায় দু বছর পর আজ পাহাড়ে পা রাখতে পারেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং ও রোশন গিরির। দুপুর দুটোয় বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামার কথা তাঁদের। ফলে ইতিমধ্যেই কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে বাগডোগরা এয়ারপোর্ট চত্বর।
ভোট প্রচারে নামতে চেয়ে বিমল বুধবার সুপ্রিম কোর্টে তিন সপ্তাহের জন্য অন্তর্বতী জামিনের আবেদন করেছেন গুরুং। তা শীর্ষ আদালত গ্রহণ করলেও মামলাটির নিষ্পত্তির ভার কলকাতা হাইকোর্টের উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। চারদিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করার করারও নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। তবে একই সঙ্গে জানিয়েছে, এই চার দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা যাবে না গুরুংকে। আজ, বৃহস্পতিবার সেই মামলাই ওঠার কথা জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে। আদালতে হাজিরা দিতেই আসছেন তাঁরা।
কিন্তু যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, চার দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা যাবে না গুরুংকে, তারই সুযোগ নিয়ে এ দিন পাহাড়ে উঠতে পারেন এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ মোর্চা নেতা।
পাহাড়ে গুরুং অনুগামীদের বক্তব্যকে, বিনয় তামাংয়ের সঙ্গে মানুষ নেই। তাঁকে বাঘ সাজিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পাহাড়ের আসল বাঘ হলেন গুরুং। তিনি এসে পৌঁছলেই লোকসভা ভোটের রঙ বদলে যাবে দার্জিলিংয়ে।
গুরুং এবং সুভাষ ঘিসিংয়ের ছেলে মন ঘিসিংয়ের সমর্থনে এ বার দার্জিলিংয়ে প্রার্থী হয়েছেন রাজু সিংহ বিস্ট। সন্দেহ নেই তাঁর অনুকূলে হাওয়া তুলতেই ভোটের আগে দার্জিলিংয়ে ঢুকতে মরিয়া গুরুং।
যদিও রাজ্য সরকার ও তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, গুরুংয়ের বিরুদ্ধে যে সব অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে, তাতে তাঁর জামিন হতে পারে না। বিজেপি-র মদতেই এদিন পালিয়ে ছিলেন গুরুং। এ বার তারাই তাঁকে পাহাড়ে ঢোকাতে নেমে পড়েছে।
২০১৭ সালের অগস্ট মাস থেকে পৃথক রাজ্যের দাবিতে নতুন করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পাহাড়ের পরিস্থিতি। টানা বনধ, বিক্ষোভ, মিছিল, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তেতে ওঠে পাহাড়। গা ঢাকা দেন তখনকার মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুঙ ও রোশন গিরি। ওই বছরেরই ১৩ অক্টোবর বিমলকে ধরতে গিয়ে গুলিতে মৃত্যু হয় রাজ্য পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর অমিতাভ মালিকের। এরপরেই লুক আউট নোটিশ জারি হয় বিমলের বিরুদ্ধে। তখন থেকেই পাহাড়ছাড়া তিনি।
এ দিন বাগডোগরায় পৌঁছনের আগে গুরুংয়ের তরফে একটি বিবৃতি জারি করেন রোশন গিরি। তাতে তিনি লিখেছেন, "আজ আমরা বাড়ি ফিরছি। গোর্খাদের উপর যে অবিচার ও অত্যাচার হয়েছে তা সবাই দেখেছে। কিন্তু তার পরেও দার্জিলিং, তরাই ও ডুয়ার্সের মানুষের অকুন্ঠ ভালবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।"