দ্য ওয়াল ব্যুরো. পশ্চিম মেদিনীপুর : লালগড়ের জঙ্গলে বাঘের মৃত্যুর প্রায় এক বছর সাড়ে তিন মাস পরে আজ সকালে বাঘঘোরার জঙ্গল পরিদর্শন করলেন ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেটিভ অথরিটির পূর্বাঞ্চলের আইজি। রাজ্যের বন দফতরের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ওই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মৃত্যুতে বনদফতরের ভূমিকা ঠিক কী ছিল , তা বোঝার চেষ্টা করেন ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেটিভ অথরিটির পূর্বাঞ্চলীয় আইজি ডাবলু লংভা।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ বাঘঘোরার জঙ্গলে আসেন ডাবলু লংভা। সেখানে তখন উপস্থিত পশ্চিমাঞ্চলের মুখ্য বনপাল শক্তিশংকর দে, মেদিনীপুরের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার সন্দীপ বেরওয়াল, মেদিনীপুরের এডিএফও বিদিশা বসাক। উপস্থিত বন আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কথা বলেন এলাকার মানুষজনের সঙ্গেও। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, কোন পরিস্থিতিতে বাঘের মৃত্যু হয়েছিল তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখা এনটিসিএর দায়িত্ব, আর সেই কারণেই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তিনি।
বাঘঘোরার জঙ্গলে বাঘের মৃত্যুর পর যে রিপোর্ট বন দফতরের তরফে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেটিভ অথরিটির কাছে পাঠানো হয়েছিল তাতে তিনি সন্তুষ্ট কি না সে প্রশ্নের জবাব অবশ্য এড়িয়ে যান কেন্দ্রীয় সংস্থার পূর্বাঞ্চলের আইজি। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই বাঘের মৃত্যুর সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্যের তৎকালীন বন আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল লালগড়ের বাঘঘোরার জঙ্গল থেকে মিলেছিল একটি পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দেহ। একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছিল বাঘটির শরীরে। জঙ্গলে শিকার উৎসব চলাকালীন বাঘটিকে মারা হয় বলে অভিযোগ উঠেছিল। ওই বছরেরই মার্চ মাসে বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়ে ছিল লালগড়ে। প্রায়ই গ্রামের গরু-ছাগল জঙ্গলে চরতে গিয়ে আর ফিরে আসতো না। বন দফতরের কর্মীরা প্রাথমিক ভাবে ভেবেছিলেন, নেকড়ে বা হায়নার দলের শিকার হচ্ছে এই গরু-ছাগলগুলো। নিশ্চিত হতে জঙ্গলে ট্র্যাফ ক্যামেরা বসায় বন দফতর। সেখানেই ধরা পড়ে বাঘের ছবি।
তারপরেই শুরু হয় বাঘ ধরার প্রস্তুতি। জঙ্গলে ছাগলের টোপ দিয়ে বসানো হয় খাঁচা। কিন্তু ধরা যায়নি তাকে। মাস খানেকের মধ্যে আদিবাসীদের শিকার উৎসব চলাকালীন বাঘঘোরার জঙ্গলে শিকারিদের হাতে মৃত্যু হয় বাঘটির। পরে জানা যায়, হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ওড়িশার শিমলিপাল অভয়ারণ্য থেকে লালগড়ের জঙ্গলে চলে এসেছিল বাঘটি। মৃত বাঘের শরীরে পাওয়া গিয়েছিল একাধিক আঘাতের চিহ্ন। বাঘের মৃত্যুর পরেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে বন দফতর। তবে এক বছরেরও বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।
ঘটনার পরেই নিয়মমাফিকই কেন্দ্রের অধীনস্থ ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেটিভ অথারিটি রাজ্যের বক্তব্য তলব করে। এ বার সংস্থার পূর্বাঞ্চলীয় দফতর থেকে লালগড়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন আইজি পদমর্যাদার অফিসার ডাবলু লংভা।
এত দিন পরে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে কী উঠে আসে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।