
শেষ আপডেট: 17 August 2023 05:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের উল্টো পথে হাঁটার কথা ঘোষণা করল মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং (Digvijaya Singh) ঘোষণা করেছেন, কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বজরং দলকে (bajrang dal) নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে না। তিনি বলেন, দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কোনও সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন নেই।
প্রসঙ্গত, এ বছর মার্চে কর্নাটক বিধানসভার ভোটের ইস্তাহারে কংগ্রেস ঘোষণা করে দল ক্ষমতায় ফিরতে পারলে জঙ্গি হিন্দু সংগঠন বজরং দল (bajrang dal) এবং পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার মতো ইসলামিক মৌলবাদী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে।
কংগ্রেসের ওই ঘোষণাকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রচারে বজরংবলী অর্থাৎ হনুমানকে অপমান করার অভিযোগ তোলেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বলেন যে হনুমানকে হিন্দুরা ভক্তিভরে পুজো করে কংগ্রেস তাকে তালাচাবি দিয়ে আটকে রাখতে চাইছে। কর্নাটকে শেষ পর্যন্ত বিজেপি হেরে গেলেও কংগ্রেস মোদীর প্রচার থেকে শিক্ষা নিয়েছে। ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাস পরও দল ওই ব্যাপারে আর উচ্চবাচ্য করছে না।
আরও পড়ুন: পাথুরিয়াঘাটায় ভেঙে পড়ল ১০০ বছরের পুরনো বাড়ি, চাপা পড়ে মৃত্যু এক মহিলার
কর্নাটকের অভিজ্ঞতা তো আছেই, মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের ঘোষণার পিছনে রাজ্য কংগ্রেসের নরম হিন্দুত্বের কৌশলও কাজ করছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কমলনাথ মধ্যপ্রদেশে হিন্দুত্বের পথে বিজেপিকে মোকাবিলার কৌশল নিয়েছেন। তিনি সাধু সম্মেলনের আয়োজন করার পাশাপাশি গেরুয়া বসনধারীদের একাংশকে কংগ্রেসের প্রচারে নামিয়েছেন। রাজ্য কংগ্রেসের উদ্যোগে জেলায় জেলায় নাম-সংকীর্তণের আয়োজন করছেন। এমনকী বজরং দল ভেঙে তৈরি একটি সংগঠনকেই কাছে টেনেছেন কমলনাথ।
এমনিতেই এই কংগ্রেস নেতা তাঁর হিন্দু পরিচয়কে সর্বদা সামনে রেখে চলেন। বিজেপি নেতাদের মতো, নিয়মিত মন্দির সফর করে থাকেন। তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র ছিন্দওয়ারায় রয়েছে রাজ্যের সবচেয়ে উঁচু হনুমান মন্দির এবং বজরংবলীর মূর্তি। নিজের টাকায় বহু বছর আগে মন্দির ও মূর্তি স্থাপন করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, দিগ্বিজয় সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর মানুষ। তিনি হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে সর্বদা খড়্গহস্ত বলা চলে। সেই দিগ্বিজয়কে দিয়েই কংগ্রেস ঘোষণা করেছে তারা ক্ষমতায় এলে বজরং দলকে নিষিদ্ধ করা হবে না। দিগ্বিজয়কে দিয়ে এই ঘোষণাও কংগ্রেসের কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮-এর বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস টানা পনেরো বছরের খরা কাটিয়ে মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতায় ফিরেছিল কমলনাথের নরম হিন্দুত্বকে পাথেয় করে। তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও নির্বাচনী প্রচারে মন্দির সফর করে বেড়াতেন। তবে মধ্যপ্রদেশের সেই সরকার কংগ্রেস টেকাতে পারেনি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া অনুগামী বিধায়কদের নিয়ে বিজেপির হাত ধরায়।