দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতে যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে তার জিনোম নিয়ে কাজ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাতে জানা গিয়েছে, এদেশে নভেল করোনাভাইরাস তার জিনের গঠনে কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটায়নি। তা যদি ঘটাত, তাহলে কার্যকরী ভ্যাকসিন তৈরি করতে সমস্যা হত। কয়েকটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, করোনাভাইরাসের জিনে যে অল্পস্বল্প পরিবর্তন ঘটেছে, তাতে ভ্যাকসিনের কাজ করতে কোনও অসুবিধা হবে না। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে এই খবর জানানো হয়েছে।
দেশে অতিমহামারীর পরিস্থিতি এখন কতদূর নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে, ভ্যাকসিন তৈরি হলে তা কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে, তা নিয়ে এদিন বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ভারতে তিনটি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। তার মধ্যে দু'টি ভ্যাকসিন নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা চলছে।
এরপরে বলা হয়, আইসিএমআর এবং ডিপার্টমেন্ট অব বায়োটেকনোলজি কোভিড ১৯ ভাইরাসের জিনোম নিয়ে সমীক্ষা করেছিল। তাতে দেখা যায়, ভারতে ওই ভাইরাস জিনগত দিক থেকে স্থিতিশীল। তাতে কোনও বড় মিউটেশন হয়নি।
গত মাসে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বলেছিলেন, এখনও পর্যন্ত কোভিড ১৯ ভাইরাসের জিনে বড় ধরনের কোনও মিউটেশন লক্ষ করা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিনের বৈঠকে অফিসারদের নির্দেশ দেন, করোনার ভ্যাকসিন তৈরি হলে দ্রুত প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা করার সময় দেশের বিশাল বিস্তৃতি ও বৈচিত্রের কথা খেয়াল রাখা প্রয়োজন। গত ৪৮ ঘণ্টায় কোভিডের ভ্যাকসিন নিয়ে দু'বার বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন মোদী বলেন, ভ্যাকসিন ডেলিভারির ক্ষেত্রে অনেকটা ভোটের মতো পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ সরকারের প্রতিটি দফতর ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনকে যুক্ত করা হবে। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আবেদন জানান, উৎসবের মরসুমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। তাঁর মতে, ভারতে করোনা আক্রান্তের হার কমছে ঠিকই, কিন্তু তাতে আত্মসন্তুষ্টির কোনও কারণ নেই।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বুলেটিন অনুসারে ১৮ অক্টোবর শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৭৪,৩২,৬৮০। সংক্রমণে এখনও পর্যন্ত দেশে মৃত্যু হয়েছে মোট ১,১২,৯৯৮ জনের। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬৫,২৪,৫৯৫ জন। ভারতে এখন অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৭,৯৫,০৮৭।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬২,২১২ জন। কোভিড সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৮৩৭ জনের। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭০,৮১৬ জন। ভারতে দৈনিক সংক্রমণের তুলনায় দৈনিক সুস্থতার সংখ্যা এখন অনেকটাই বেশি। দেশে এখন সুস্থতার হার ৮৭.৭৮ শতাংশ। আর মৃত্যুহার ১.৫২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোভিড টেস্ট করা হয়েছে ৯,৯৯,০৯০ জনের।