দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণে চিনে আক্রান্ত ও মৃতের সঠিক সংখ্যা কত সেই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছেই। বৃহস্পতিবারই হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আক্রান্তের মোট সংখ্যা লঘু করে দেখাচ্ছে বেজিং। তাদের সরকারি রিপোর্টে ভুল তথ্য দেওয়া আছে। ট্রাম্পকে সমর্থন করেই এবার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কূটনীতিক তথা রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি দাবি করলেন, করোনা আক্রান্তের যে সরকারি রিপোর্ট আন্তর্জাতিক মহলকে দেওয়া হয়েছে সেটা একেবারেই সঠিক নয়। বরং হোয়াইট হাউসের সন্দেহই ঠিক।
বৃহস্পতিবার টুইট করে নিকি বলেন, “চিন রিপোর্ট দিয়েছে ভাইরাসের সংক্রমণে ৮২ হাজার আক্রান্ত, মৃতের সংখ্যা ৩৩০০। এই রিপোর্ট ঠিক নয়। হোয়াইট হাউস যেন এই তথ্যে বিশ্বাস না করে।”
https://twitter.com/NikkiHaley/status/1245760299157897216
মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য চিনের দিকেই বাড়ে বাড়ে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। করোনাভাইরাস কে বয়ে এনেছে সেই নিয়ে চিন-মার্কিন দ্বন্দ্ব থামেনি। দোষারোপ, পাল্টা-দোষারোপের পালা চলছেই। নিকির দাবি, নিজেদের সম্মান বাঁচাতেই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কম করে দেখানোর চেষ্টা করছে চিন। মুখ লোকানোর জন্য এই পন্থাই নিয়েছে তারা।
রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রাক্তন মার্কিন দূত নিকির আরও দাবি, চিনে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সংক্রামিতের সঠিক সংখ্যাই বা কত, সেটা তদন্ত করে দেখছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। বেজিংয়ের রিপোর্টে ভরসা না করেই নিজেদের মতো করে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। তাদের রিপোর্টেই উঠে এসেছে যে চিন প্রকৃতপক্ষেই মৃতের সংখ্যা গোপন করে যাচ্ছে। সংক্রমণ থেমে যাওয়ার যে দাবি তুলেছে চিন, সেটাও সত্যি নয়।
ভাইরাসের সংক্রমণে ভয়াবহ অবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বৃহস্পতিবারের রিপোর্টে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ৪০ হাজারের কাছাকাছি। সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৮০০। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে সংক্রমণ মহামারী হওয়ার আগে অবধি নিরুদ্বেগে ছিল মার্কিন প্রশাসন। সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করার কোনও উদ্যোগই নেয়নি হোয়াইট হাউস। যার কারণেই মৃত্যু বেড়ে চলেছে মার্কিন মুলুকে, মড়ক লেগে গেছে নিউ ইয়র্কে। এই প্রশ্নের মুখেই সরাসরি চিনকে দুষে ট্রাম্প বলেছিলেন, চিনে সংক্রামিত আর মৃতের মোট সংখ্যা বিচার করলে আমেরিকার দিকে আর আঙুল উঠবে না। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি রিপোর্টও বলছে, হোয়াইট হাউসের সন্দেহ মিথ্যা নয়। মার্কিন গোয়েন্দাদের তথ্য বলছে, সরকারি রিপোর্টে ভুল পরিসংখ্যান দেখিয়েছে চিন। তাদের ন্যাশনাল হেলথ কেয়ারের রিপোর্টও ভুল। গোটা বিশ্বকেই অন্ধকারে রাখার চেষ্টা করছে তারা।