দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেমডেসিভিরের দুই জেনেরিক ভার্সন সিপ্রেমি ও কোভিফোর ভারতের বাজারে আনছে সিপলা ফার্মাসিউটিক্যাল ও হেটেরো ল্যাব। রেমডেসিভিরের এই দুই জেনেরিক ভার্সনের দাম পাঁচ হাজার টাকার বেশি। এবার দেশের বাজারে রেমডেসিভিরের আরও একটি জেনেরিক ভার্সন আনার কথা ঘোষণা করল আন্তর্জাতিক ড্রাগ নির্মাতা সংস্থা মাইল্যান এন ভি। তাদের ধার্য করা দাম প্রতি ১০০ মিলিগ্রাম ভায়ালে প্রায় ৪৮০০ টাকা।
করোনা চিকিৎসায় অ্যান্টি-রেট্রোভিয়াল ড্রাগ রেমডেসিভিরের প্রয়োগে অনুমতি দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোল। সবুজ সঙ্কেত মেলার পরেই এই ওষুধের নির্মাতা সংস্থা গিলিয়েড সায়েন্সেসের সঙ্গে চুক্তি করে রেমডেসিভিরের নিজস্ব ব্র্যান্ড ভারতের আনার কথা ঘোষণা করেছে সিপলা, হেটেরো ল্যাব ও জুবিল্যান্ট লায়েফ সায়েন্স। তারমধ্যে সিপলা ও হেটেরো ল্যাব রেমডেসিভিরের দুই জেনেরিক ভার্সন সিপ্রেমি ও কোভিফোরের সম্ভাব্য দামের কথাও ঘোষণা করে দিয়েছে। সূত্রের খবর, ভারতের বাজারে রেমডেসিভির ওষুধ বিক্রির লাইসেন্স পেয়েছে মাইল্যান। ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমোদনেই রেমডেসিভিরের ব্র্যান্ড ডেসরেম আনতে চলেছে তারা।
নেদারল্যান্ডের ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা মাইল্যানের হেডকোয়ার্টার রয়েছে ব্রিটেন ও পেনসিলভানিয়াতেও। সংস্থার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গিলিয়েডের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে ১২৭ টি দেশে রেমডেসিভিরের জেনেরিক ভার্সন ডেসরেম আনবে তারা। ভারতে এই ওষুধের দাম পড়বে ৪৮০০ টাকার কাছাকাছি। গিলিয়েড এখনও অবধি অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল দেশগুলিতে রেমডেসিভিরের দাম রেখেছে লাখের বেশি। প্রতি রোগীর থেরাপিতে যার মোট খরচ পড়বে ভারতীয় টাকার হিসেবে ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার কাছাকাছি। আমেরিকা ইতিমধ্যেই রেমডেসিভিরের একটা বড় স্টক তুলে নিয়েছে।
করোনার সলিডারিটি ট্রায়ালে রেমডেসিভির ও ফ্যাভিপিরাভির এই দুই ওষুধেরই সুফল দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতদিন রেমডেসিভিরের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চালিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমতি মেলার পরে জরুরি ভিত্তিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এই ওষুধের ব্যবহার শুরু হতে চলেছে। গিলিয়েড সায়েন্সেসের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে প্রথম দেশের বাজারে রেমডেসিভিরের ব্র্যান্ড নিয়ে আসছে সিপলা ও হেটেরো ল্যাব। তবে এই দুই ফার্মা কোম্পানির বেঁধে দেওয়া দাম নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে। সিপলা ফার্মাসিউটিক্যালস ঘোষণা করেছে তাদের তৈরি সিপ্রেমি ওষুধের প্রতি ১০০ মিলিগ্রামের দাম হবে ৫০০০ টাকা। হেটোরো ল্যাব প্রথমে জানিয়েছিল তাদের তৈরি কোভিফোর ওষুধের দাম হতে পারে পাঁচ থেকে ছ’হাজার টাকার মধ্যে। পরে তারা জানায়, কোভিফোরের প্রতি ভায়ালের (১০০ মিলিগ্রাম)দাম হবে ৫৪০০ টাকা।
এরপরেই প্রশ্ন উঠেছে, প্রতি ভায়াল সিপ্রেমির দাম যদি হয় ৫০০০ টাকা এবং কোভিফোরের ৫৪০০ টাকা, তাহলে পাঁচদিনের কোর্সে ট্রিটমেন্টের খরচ হবে আকাশছোঁয়া। দুই ওষুধের দামই সাধ্যবিত্তের বাইরে। সিপলা যদিও জানিয়েছে, জনসাধারণের কথা মাথায় রেখে ওষুধের দামের ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা করা হতে পারে। হেটেরো ল্যাব এখনও এই বিষয়ে কিছু জানায়নি।