দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঁদরের উৎপাত চরমে। চাষের জমি তছনছ করছে। ক্ষতি করছে ফসলের। হানা দিচ্ছে যত্রতত্র। হিমাচল প্রদেশের পর এবার উত্তরাখণ্ডে বাঁদরকে ‘ভার্মিন’ বা ক্ষতিকর ঘোষণা করতে চলেছে সে রাজ্যের সরকার। একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উপদ্রবকারী বিশেষ এক প্রজাতির বাঁদরকে মারার অনুমতি দিতে পারে উত্তরাখণ্ডের বন দফতর।
মঙ্গলবার দেহরাদূনে রাজ্য বন্যপ্রাণী বিষয়ক বোর্ড মিটিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত জানান, বাঁদরদের উপদ্রব দিন দিনই বাড়ছে রাজ্যে। এ বছর বিঘার পর বিঘা চাষের জমি দাপিয়ে বেড়িয়েছে বাঁদরের দল। তছনছ করেছে জমির ফসল। প্রভূত ক্ষতির মুখে চাষিরা। গ্রাম বা মফস্বল বলে নয় বাঁদরের দল হানা দিচ্ছে শহরেও। জেরবার বাসিন্দারা। আর এই উপদ্রবের জন্য দায়ী রেস্যাস ম্যাকাকা (ম্যাকাকা মুলাটা)বাঁদর যাদের বিরল তালিকাভুক্ত করেছে আইইউসিএন।
রাজ্যের বনমন্ত্রী হরক সিং রাওয়াত জানিয়েছেন, হিমাচল প্রদেশে একই কারণে এই বাঁদরদের ‘ক্ষতিকারক’ ঘোষণা করা হয়েছিল। একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাঁদর মারার অনুমতিও দেয় সরকার। উত্তরাখণ্ডের কিছু এলাকায় এই বাঁদরদের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়েছে। এই মুহূর্তে উত্তরাখণ্ডে প্রায় দেড় লাখ বাঁদর রয়েছে। প্রতি বছর তাদের সংখ্যা ৩৬ শতাংশ করে বাড়ছে। পাহাড়ি এলাকায় ফসল ফলানো এমনিতেই কষ্টসাধ্য ব্যাপার, আর যা ফসল হচ্ছে সবই নষ্ট করে দিচ্ছে এই বাঁদররা। বাড়ির বাগানও তছনছ করছে। বাধ্য হয়ে লোকজন ঘরবাড়ি ফেলে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে।
হিমাচল প্রদেশে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাঁদর নিধন আইনসিদ্ধ। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে হিমাচলের ১১টি জেলায় বাঁদরকে ‘ভার্মিন’ ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে বন্যশুয়োরকে ‘ভার্মিন’ বলে চিহ্নিত করেছিল উত্তরাখণ্ড সরকার। একবছরের জন্য বন্যশুয়োর শিকারে কোনও বাধা ছিল না। এবার সেই ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে বাঁদরদের ক্ষেত্রেও।
বন দফতর জানিয়েছে, বন্যপ্রাণী আইন অনুসারে সমস্ত প্রজাতিদের পাঁচটা সিডিউলে ভাগ করা হয়। যাদের সংরক্,ণের বেশি দরকার যেমন বাঘ, গাঙ্গেয় শুশুক ইত্যাদি তারা সিডিউল I-এর অন্তর্ভুক্ত। এইসব প্রাণীদের শিকার করলেই কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা আছে আইনে। সিডিউল II,III,IV-এর অন্তর্ভুক্তরাও সুরক্ষিত, তবে এদের অনুমতি সাপেক্ষে শিকার করা যায়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের ১১ (১)এ ধারা অনুযায়ী যদি তারা মানুষ ও সম্পদের ক্ষতি করে, নির্দিষ্ট এলাকা থেকে তাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং আরও কয়েকটি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তবেই এই অনুমতি দেওয়া হয়।
চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন রাজীব ভারতারি বলেছেন, উত্তরাখণ্ডের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় একটা বিশেষ সময় পর্যন্ত বাঁদরদের ‘ভার্মিন’ ঘোষণা করার কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রের অনুমতি মিললে তবেই এই ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।