শেষ আপডেট: 3 January 2020 10:33
কনওয়ালজিৎ কউর এবং তাঁর স্ত্রী কমলজিৎ 'দেশি গ্রিল' নামের একটি রেস্তোরাঁ চালান ভিক্টোরিয়া এলাকায়। এই শিখ দম্পতি এবং তাঁদের হোটেলের সমস্ত কর্মীদের এখন একটাই লক্ষ্য। দাবানলে ঘরছাড়া হওয়া মানুষগুলোর অন্ন সংস্থানের ব্যবস্থা করা। যোগ দিয়েছেন আশেপাশের শিখ সম্প্রদায়ের আরও অনেকেই। 'শিখ ভলান্টিয়ার্স অস্ট্রেলিয়া' নামের একটি এনজিওর সঙ্গে যুক্ত কনওয়ালজিৎ সিং এবং তাঁর স্ত্রী কমলজিৎ। এই সংস্থাই হাত লাগিয়েছে ঘরছাড়া মানুষদের খাবার জোগাড়ে। 'দেশি গ্রিল' রেস্তোরাঁর অন্দরমহলে জোরকদমে চলছে রান্না। ভাত-সবজির সঙ্গে মেনুতে রয়েছে পাস্তাও।
গত ৬ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা কনওয়ালজিৎ সিং এবং তাঁর স্ত্রী, রেস্তোরাঁও চলছে বহুবছর হল। প্রতিবেশীদের এমন দুর্দিন এই ছ'বছরে কোনওদিন দেখেননি তাঁরা। কনওয়ালজিতের কথায়, "এমন ভয়াবহ অবস্থা আগে কখনও দেখিনি। কত লোকের বাড়িঘর পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে। সর্বহারা হয়ে গিয়েছে মানুষগুলো। খিদের চোটে রাস্তার মধ্যেই কান্নাকাটি করছে বাচ্চারা। বাবা-মায়েদের অসহায় মুখ দেখে তাই মনস্থির করি যেভাবেই হোক ওঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। শিখ সমাজের জীবনযাত্রা আমাদের এটাই শিখিয়েছ।"
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে শিখ ভলান্টিয়ারদের এই বিরাট কর্মকাণ্ডের ছবি। প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরাও। সাধুবাদ জানিয়ে সকলেই বলছেন, "দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, তাঁদের খাবারের সংস্থান করে পুণ্যের কাজ করেছেন কনওয়ালজিৎ এবং তাঁর স্ত্রী। কুর্নিশ শিখ ভলান্টিয়ারদেরও।"
ইতিমধ্যেই দাবানলের আগুনে ঝলসে মারা গিয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন। প্রায় ৪ মিলিয়ন হেক্টর জমিও পুড়িয়ে খাক করে দিয়েছে অরণ্যের আগুন। ভস্মীভূত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। বিপর্যস্ত অরণ্যের পশুপাখিদের জীবনও।