দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারও শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করতে নতুন পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনুমোদন দিল মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তথা এফডিএ।
এফডিএ হল মার্কিন প্রশাসনের স্বাস্থ্য পরিষেবার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কোনও ওষুধ বা বায়োলজিকাল প্রোডাক্ট, বিভিন্ন চিকিৎসা উপকরণ মানুষের শরীরের জন্য কতটা প্রভাব ফেলে তা নিয়ে সর্বদাই গবেষণা চলছে সেখানে। এফডিএ-র অনুমোদন ভিন্ন এ ধরনের কোনও জিনিসই আইনত বিক্রি বা ব্যবহার করা যায় না আমেরিকায়। সে দিক থেকে এফডিএ-র অনুমোদনের গুরুত্ব বিশ্বব্যপী রয়েছে।
ওই টেস্ট কিট তৈরি করেছে ক্যালিফোর্নিয়া স্থিত এক ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা। তাদের নাম সেফিড। ওই প্রতিষ্ঠানের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার থেকে তারা এই টেস্ট কিট বিভিন্ন শহরে পাঠানো শুরু করবে।
প্রসঙ্গত, ভারতেও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ তথা আইসিএমআর-এর কাছে বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ল্যাব করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য অনুমোদন চেয়ে রেখেছে। আশা করা হচ্ছে, এদের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেবে আইসিএমআর।
সেফিডের চিফ মেডিকেল ও টেকনোলজি অফিসার ডেভিড পারসিং জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন বিশ্বজোড়া মহামারীর আকার নিয়েছে। এই অবস্থায় কোনও রোগীর শরীরে কোভিড-১৯ –এর কোনওরকম উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত টেস্ট করা জরুরি। সে কথা মাথায় রেখেই এই টেস্ট কিট তৈরি করা হয়েছে।
তাঁর কথায়, যত দ্রুত টেস্ট করা যাবে ততটাই দ্রুততার সঙ্গে কোনও রোগীকে আইসোলেশনে রাখা যেতে পারে। কারণ, এ ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষেত্রে সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতি অল্প সময়ের মধ্যে বহুগুণে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কোনও মানুষের শরীরের এই রোগের সংক্রমণ ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
শুধু ভারতে নয়, গোটা বিশ্বজুড়ে উন্নত দেশগুলিতেও করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। কারণ, সব হাসপাতালে এ ধরনের টেস্ট হচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত কিছু চিকিৎসা কেন্দ্র ও হাসপাতালেই তা হচ্ছে। মার্কিন চিকিৎসকরাও বলছিলেন, তাঁদের দেশেও করোনাভাইরাস টেস্টের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু এফডিএ-র অনুমোদনের পর সেই সংকট কাটবে বলেই তাঁরা আশা করছেন।
প্রসঙ্গত, আমেরিকাতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণও দ্রুততার সঙ্গেই ছড়াচ্ছে। এখনও পর্যন্ত সেখানে ২৫৪৯৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ যাবৎ মৃত্যু হয়েছে ৩০৭ জনের।