দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ বছর এপ্রিল মাসেই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল শতাব্দী প্রাচীন নোতর দাম ক্যাথিড্রালের একটা বিশাল অংশ। দীর্ঘ দু'মাস তদন্তের পর অনুমান করা হচ্ছে, একটা জ্বলন্ত সিগারেট অথবা কোনও বড়সড় ইলেকট্রিকাল ফল্ট-এর জন্যই সেদিন পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছিল 'নোতর দাম'। বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন, তদন্তকারী আধিকারিকরা। যদিও তাঁরা বলেছেন এটা প্রাথমিক অনুমান মাত্র। আরও গভীর ভাবে তদন্ত করা হবে। খতিয়ে দেখা হবে সব সাক্ষ্য-প্রমাণ। তারপরেই কোনও সিদ্ধান্তে আসা যাবে।
১৫ এপ্রিল, ২০১৯। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল প্যারিসের আকাশ। আগুনের লেলিহান শিখায় একটু একটু করে গ্রাস হচ্ছিল 'লেডি অফ প্যারিস' নোতর দাম ক্যাথিড্রাল। হাজার হাজার লোকের চোখের সামনেই শেষ হয়ে যাচ্ছিল সাড়ে আটশো বছরেরও বেশি সময় ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ফ্রান্সের গর্ব। সে সময় অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো বা এমন বিধ্বংসী আগুনের পিছনে রয়েছে অপরাধ জগতের কালো ছায়া। রয়েছে কোনও জঙ্গি সংগঠনের হাত। তবে বুধবার তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, এ ধরণের কোনও কারণে নোতর দামে আগুন লাগেনি। অন্তত ১০০ জনের সঙ্গে কথা বলে সমীক্ষা করে এবং তথ্য-প্ত্রমাণ খুঁটিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তাঁরা, এমনটাই জানিয়েছেম তদন্তকারীরা।
যদিও বারবারই তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এখনও তদন্ত চলছে। আরও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি। গভীর ভাবে বিস্তারিত তদন্তের পরেই শেষ সিদ্ধান্ত জানাবেন তাঁরা, যে কেন এবং কী ভাবে আগুন লেগেছিল নোতর দামে।
প্রায় এক ঘণ্টার আগুনে ক্যাথিড্রালের ভিতর ও বাইরের সিংহভাগ বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। উত্তর ও দক্ষিণের সৌধ দু'টি অক্ষত থাকলেও ভেঙে পড়েছিল ক্যাথিড্রালের ৩০০ ফুট উঁচু ধাতব মিনার। ভিতরের অধিকাংশ প্রাচীন মূর্তি, দুর্লভ ছবি অগ্নিদগ্ধ হয়ে গিয়েছিল। ক্ষত সারিয়ে পুরনো গরিমা ফিরে পেতে ঠিক কত বছর লাগবে সেটা ঠিক করে বলতে পারেনি ফরাসি সরকার। কেবল জানা গিয়েছিল, আগামী পাঁচ বছরের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে ক্যাথিড্রালের দরজা। সেই সময় পুরোদমে চলবে সংস্কারের কাজ। নোতর দাম যাতে তার পুরনো রূপ ফিরে পায় সে জন্য এগিয়ে এসেছিলেন বিশ্বের স্বনামধন্য শিল্পপতিরা। আর্থিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছিল তাবড় সংস্থা ডিজনিও।