দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রাক্তন পুলিশ অফিসার ভারতী ঘোষের উপর নির্ভর করে দল যে ভুল করেছিল তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন পরিবহণ ও সেচ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বাম জমানায় পশ্চিমাঞ্চলে যখন সরকার বিরোধী রোষ বাড়ছে, সেই সময় থেকে সেখানে সাংগঠনিক দায়িত্ব শুভেন্দুর উপরে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামের পর্যবেক্ষক ছিলেন তিনিই। কিন্তু তার পর বাংলায় ক্ষমতায় এসেই তৃণমূলের অন্দরের রসায়নও বদলে যায়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার করা হয় ভারতী ঘোষকে। যিনি মমতাকে মা বলে ডাকতেন। আর নিজের পরিচয় দিতেন জঙ্গলমহলের মা বলে। তৃণমূলের মধ্যেই অভিযোগ, সরাসরি দিদির সঙ্গে কথা বলে পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের সংগঠনও দেখতেন ভারতীই। তাঁর উপর অন্ধ বিশ্বাস ছিল মমতারও।
কিন্তু সেই পশ্চিম মেদিনীপুরে গত বছর পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকেই তৃণমূলের ভিত নড়বড়ে হতে শুরু করে। তার পর লোকসভা ভোটে জেলার দুটি আসনের মধ্যে একটি হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। শুক্রবার ওই জেলারই বিধায়ক ও নেতাদের তৃণমূল ভবনে বৈঠকে ডেকেছিলেন মমতা।
সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে দিদির সামনেই নাম না করে ভারতীর প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তবে তা নিয়ে দিদি খুব একটা উচ্চবাচ্য করেননি। শুধু বলেন, এখন থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের নেতারা শুভেন্দুর সঙ্গে সমন্বয় করে চলবেন। শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর নয়, বাঁকুড়া-পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের দায়িত্বও শুভেন্দুকে দিয়েছেন মমতা।
এ ব্যাপারে জেলার এক নেতা বলেন, ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো শুভেন্দুই রয়েছেন। অথচ ঘটনা হল, মুকুল রায়ের পরামর্শে মমতা শুভেন্দুকে জঙ্গলমহলের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়েছিলেন। আসল উদ্দেশ্য ছিল দলে শুভেন্দুর ক্ষমতা খর্ব করা। সে জন্য শুভেন্দুর হাত থেকে নিয়ে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারতী ঘোষকে জেলার পুলিশ সুপার করে তাঁর চোখ দিয়ে জঙ্গলমহল দেখতেন মমতা। তার ফল হাতে নাতে পেয়েছে দল। তাঁর কথায়, স্থানীয় কিছু নেতার বিরুদ্ধে যে পাহাড় প্রমাণ প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হয়েছে, তাতে এই টিম নিয়ে শুভেন্দুর পক্ষেও জমি উদ্ধার করা চাপের। সংগঠনে রদবদল করা ছাড়া কোনও উপায়ন্তর নেই।