দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের নজির গড়ল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। শ্বাসনালীতে আটকে থাকা কুলের বিচি বের করে মৃত্যুর মুখ থেকে কিশোরীকে ফিরিয়ে দিলেন চিকিৎসকরা। জানা গিয়েছে, কিশোরীর নাম পিঙ্কি হাঁসদা। বারো বছরের ওই কিশোরী পুরুলিয়ার কাশীপুর থানা এলাকার বাসিন্দা।
দিন সাতে আগে কুল খেতে গিয়ে কুলের বিচি আটকে যায় শ্বাসনালীতে। শুরু হয় প্রবল শ্বাসকষ্ট। সঙ্গে সঙ্গেই কিশোরীকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। এই ঘটনা গত শনিবারের। এক্স রে এবং সিটি স্ক্যান করে দেখা যায় কুলের বিচি আটকে গিয়েছে ডানদিকে শ্বাসনালীতে। এবং সেটা আটকে থাকার দরুণ অক্সিজেন পৌঁছতে পারছে না কিশোরীর শরীরে। প্রায় অকেজো হয়ে গিয়েছে ডানদিকের ফুসফুস।
টানা পাঁচদিন বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল কিশোরী। কিন্তু কুলের বিচি বের করতে পারেননি চিকিৎসকরা। এরপর অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় কিশোরীকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে পরিবার। শুক্রবার গভীর রাতে কিশোরীকে আনা হয় কলকাতায়। ততক্ষণে কিশোরীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা নেমে এসেছে ৪০-এ। রাতেই হাসপাতালের ইএনটি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় কিশোরীকে। তবে ওই বিভাগে বেড খালি না থাকায় তাকে ভর্তি করা হয় অর্থোপেডিক বিভাগে।
শনিবার সকালেই কিশোরীর অস্ত্রোপচার শুরু করেন চিকিৎসকরা। জানা গিয়েছে, কিশোরীর শ্বাসনালীতে আটকে থাকা প্রমাণ সাইজের কুলের বিচি ব্রঙ্কোস্কোপি করে প্রমাণ বের করা সম্ভব হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কুলের বিচি বের করা গেলেও এখনই কিশোরীকে বিপদমুক্ত বলা যাচ্ছে না। প্রায় সাতদিন ঠিকমতো অক্সিজেন পৌঁছয়নি কিশোরীর শরীরে। ফলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দিন তিনেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে বড়সড় অঘটনের হাত থেকে এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছে কিশোরী। প্রাণে বেঁচে গিয়েছে ১২ বছরের পিঙ্কি হাঁসদা।