দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত শুক্রবার ভারত নেপাল সীমান্ত বরাবর সীতামারি জেলার লালবন্দি - জানকীনগর এলাকায় নেপাল পুলিশের গুলিতে এক ভারতীয় নিহত হয়েছেন। আরও দু'জন আহত হয়েছেন। এক ভারতীয়কে আটক করে নেপাল পুলিশ। পরে অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নেপাল পুলিশ পুরো ঘটনাটি জোর করে ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানকীনগরের বাসিন্দা নীতীশ কুমার জানিয়েছেন, তাঁরা সেদিন সীমান্ত এলাকাতেই ছিলেন। ১৮ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি চালায় নেপাল পুলিশ। বেধড়ক মারধর করা হয় ওই পরিবারের সদস্যদের। এমনকি একজনকে আটকও করা হয়।
সেদিন বিকাশ যাদব, উমেশ রাম ও উদয় ঠাকুরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় নেপাল পুলিশ। মৃত্যু হয় বিকাশ যাদবের। লগান কিশোর নামের এক ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নেয় নেপাল পুলিশ। শনিবার তাঁকে ছাড়া হয়।
পরে লগান কিশোর জানিয়েছেন, সেখানে তাঁরা গিয়েছিলেন তাঁদের বাড়ির পুত্রবধূর সঙ্গে দেখা করতে। পুত্রবধূ নেপালের বাসিন্দা। তাঁরা সেখানে বসে গল্পের করছিলেন। হঠাৎ করেই সেখানে উপস্থিত নেপাল পুলিশের কর্মীরা তাঁদের লাগাতার গালাগাল করা শুরু করেন। তাঁরা বাধা দিলে গুলি চালানো শুরু করেন পুলিশকর্মীরাও। গুলির আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়।
লগান জানিয়েছেন, গুলি চালানো শুরু হতেই তাঁরা পালিয়ে ভারতের দিকে যেতে চান। কিন্তু নেপাল পুলিশ জোর করে তাঁকে ধরে নিয়ে যান। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। জোর করে স্বীকারোক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু তিনি তা করেননি। নইলে আরও বড় বিপদ হতে পারত তাঁর।
অজিত কুমার নামের আর এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, নেপাল পুলিশের এই রূপ আমরা কোনও দিন দেখিনি। নেপালের সঙ্গে এই এলাকায় অনেকেরই বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। এদিকের অনেকে রয়েছেন, যাঁদের জমি নেপালে রয়েছেন। আবার নেপালের অনেকের জমি এদিকে রয়েছে। আগে কোনও দিন এতে সমস্যা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ নিজেদের ব্যবহারে বদল ঘটিয়েছে তারা।
বেশ কিছুদিন থেকেই সীমান্ত নিয়ে ভারত ও নেপালের মধ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা এলাকা নিজেদের মানচিত্রে দেখিয়েছে নেপাল। সেই সংক্রান্ত বিলও পাশ হয়ে গিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে ভারত।