জার্মানির 'ওয়ান্টেড' অপরাধীর ঠাঁই দিল্লি বিমানবন্দরে, লকডাউনে আটকে প্রায় ২ মাস
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৫ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে ভারতে চলছে লকডাউন। তার আগেই বন্ধ হয়েছিল বিমান পরিষেবা। আন্তর্জাতিক এবং ডোমেস্টিক দুই ক্ষেত্রেই বন্ধ রয়েছে উড়ান। আর এর জেরেই দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরের ট্রানজি
শেষ আপডেট: 11 May 2020 08:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৫ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে ভারতে চলছে লকডাউন। তার আগেই বন্ধ হয়েছিল বিমান পরিষেবা। আন্তর্জাতিক এবং ডোমেস্টিক দুই ক্ষেত্রেই বন্ধ রয়েছে উড়ান। আর এর জেরেই দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরের ট্রানজিট জোনে আটকা পড়েছেন এক জার্মান ব্যক্তি। তবে তিনি আবার যে সে নন, নিজের দেশে তাঁর নামে রয়েছে অসংখ্য পুলিশ কেস। জার্মান সরকারও তাঁকে দাগী অপরাধী বলেই চিহ্নিত করেছে।
গত ১৮ মার্চ দিল্লিতে পৌঁছন বছর ৪৩-এর এডগার্ড জিয়েবাট। ভিয়েতনামের রাজধানী হানোই থেকে ইস্তানবুলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি। ভিয়েত জেট-এ করে যেদিন এডগার্ড দিল্লি বিমানবন্দরে নামেন সেদিনই তুরস্ক থেকে আসা এবং যাওয়ার সমস্ত বিমান পরিষেবা বন্ধ করে ভারত সরকার। এর চারদিন পরেই ভারতে সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হয় বিমান ওঠানামা। তারপর জারি হয়ে যায় লকডাউনও। ফলে আর দেশে ফেরা হয়নি এডগার্ডের।
ইতিমধ্যেই জার্মান এমব্যাসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এডগার্ডের ক্রিমিনাল রেকর্ডের ব্যাপারে ভারত সরকারকে জানায়। এই পরিস্থিতিতে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এডগার্ডকে ফিরিয়ে নিতেও অস্বীকার করে জার্মান প্রশাসন। অন্যদিকে তাঁকে ভিসা দেয়নি ভারতও। ফলে বিমানবন্দরের ট্রানজিট জোনেই ঠাঁই হয় তাঁর। প্রায় ২ মাস হতে চলল সেখানেই রয়েছেন এডগার্ড।
পরিষেবা বন্ধ থাকলেও কার্গো বিমান চালু থাকায় বিমানবন্দরের কিছুটা অংশ খোলা হয় প্রায় রোজই। আর তার উপরেই নির্ভর করে দিন কাটছে এডগার্ডের। কখনও মেঝে, কখনও বা চেয়ার-বেঞ্চে শুয়েই নিজের মত ঘুমিয়ে নেন তিনি। এখন পুরোটাই তাঁর কাছে অবসর সময়। খবরের কাগজ কিংবা ম্যাগাজিন পড়ে বা গ্রাউন্ড স্টাফদের সঙ্গে গল্প করেই সময় কাটাচ্ছেন এডগার্ড। এয়ারপোর্টের ভিতরে খোলা থাকা দোকান থেকেই আসছে ফাস্ট ফুড। যদিও হাতেগোনা কয়েকটা দোকানই খোলা রয়েছে।
বিমাবন্দর কর্তৃপক্ষ অবশ্য এডগার্ডের সাহায্যের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসেরই জোগান দিয়েছে। মশারি থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া সব দিকেই যতটা সম্ভব খেয়াল রেখেছেন কর্মীরা। জার্মানির অপরাধী হলেও এ দেশে অযত্ন পাচ্ছেন না তিনি। তবে সবের মধ্যেই বজায় রয়েছে সোশ্যাল ডিসট্যান্সও। আগামী ১৭ মে লকডাউন ওঠার কথা ভারতে। তারপর এডগার্ডের কী ব্যবস্থা হয় সেটাই এখন দেখার।