দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা আক্রান্তের ৫০ শতাংশের বেশি দেশের ১০টি বড় শহরে হয়েছে বলে আগেই পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। এবার ভারতের পিছিয়ে পড়া জেলাগুলিতে এই ভাইরাসের সংক্রমণ কী হারে হয়েছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এমপাওয়ারড গ্রুপ ৬-এর চেয়ারম্যান অমিতাভ কান্ত। এই এলাকাগুলিতে সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন এনজিও-র ভূমিকাও তুলে ধরেন তিনি।
সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এমপাওয়ারড গ্রুপ ৬-এর চেয়ারম্যান অমিতাভ কান্ত বলেন, সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরেই ভারতের ৯২ হাজার এনজিওকে কাজে লাগানো হয়েছিল। সরকারের সঙ্গে প্রতি পদে পদে কাজ করেছে এনজিওগুলি। মূলত পিছিয়ে পড়া এলাকায় কমিউনিটি কিচেন করে গরিবদের খাওয়ানো, তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা, পিপিই কিট, মাস্ক ও স্যানিটাইজার সরবরাহ করা, হেলথ ক্যাম্প করে তাঁদের শারীরিক পরীক্ষা করা, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়ার দায়িত্ব এই এনজিওগুলিকে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অমিতাভ কান্ত।
এই কাজের জন্য কেন্দ্রের তরফে এনজিওগুলিকে সবরকমের সাহায্য করা হয়েছে বলেই জানান অমিতাভ। তিনি বলেন, ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার কাছ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে চাল ও ২১ টাকা কেজি দরে গম যত দরকার কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এই এনজিওগুলিকে। রাজ্য সরকার ও বিভিন্ন জেলার প্রশাসনের সঙ্গে মিলে কাজ করতে বলা হয়েছিল তাদের। এই কাজে রাজ্য সরকারগুলিও প্রতিটি জেলায় একজন করে নোডাল অফিসার নিযুক্ত করেছিলেন। পিছিয়ে পড়া এলাকায় বয়স্ক ও বাচ্চাদের মধ্যে যেন সংক্রমণ বেশি না ছড়ায় সেদিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

পিছিয়ে পড়া জেলায় নজরদারির এই প্রোগ্রামকে ‘অ্যাসপিরেশনাল ডিস্ট্রিক্টস প্রোগ্রাম’ নাম দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ১১২টি পিছিয়ে পড়া জেলায় নজরদারি চালানো হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ১১২ জেলায় ৬১০ জন কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন। দেশের ২২ শতাংশ জনসংখ্যা রয়েছে এই ১১২ জেলায়। কিন্তু আক্রান্তের পরিমাণ মাত্র ২ শতাংশ।
এই পিছিয়ে পড়া জেলাগুলির মধ্যে মাত্র ৬টি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০-এর বেশি বলে জানিয়েছেন অমিতাভ কান্ত। সেই জেলাগুলি হল বারামুল্লা ( ৬২ ), নুহ ( ৫৭ ), রাঁচি ( ৫৫ ), ওয়াইএসআর ( ৫৫ ), কুপওয়ারা ( ৪৭ ) ও জয়সলমের ( ৩৪ )। এই ছয় জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন। এছাড়া ‘সুরক্ষিত দাদা-দাদি অ্যান্ড নানা-নানি অভিযান’এর মাধ্যমে জেলার বয়স্ক মানুষদের দিকে দেখভাল করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

দেশের পিছিয়ে পড়া জেলায় এই সংক্রমণের পরিমাণ কমাতে পারা পরিকল্পনার সফল রূপায়ণ বলেই জানিয়েছেন অমিতাভ কান্ত। এই কাজে সাহায্য করার জন্য সব এনজিওগুলিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।