দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রে প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার দলের অফিশিয়াল টুইটার হ্যান্ডল থেকে একটি টুইট করে এই কথা জানানো হয়েছে। ওই প্রতিনিধি দলে থাকবেন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুনীল মণ্ডল এবং ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন সাংসদ উমা সরেন। শনিবার সকালে এই প্রতিনিধিদলের সেখানে যাওয়ার কথা।
বুধবার গুজ্জর ও গোণ্ড সম্প্রদায়ের মধ্যে ৩৬ একরের একটি জমি নিয়ে গোলমালের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সোনভদ্র। জমির মালিক গ্রাম প্রধান এবং তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সকলেই বহিরাগত দুষ্কৃতী বলে অভিযোগ। গুলিতে মারা যান ১০ জন। আহত হন ২৪ জন। নিহত এবং আহতদের মধ্যে সিংহভাগই দলিত সম্প্রদায়ের।
জানা গিয়েছে, বছর দু’য়েক আগে সোনভদ্রর কাছে উভা গ্রামের প্রধান ৩৬ একর জমি কিনেছিলেন। জমিটি ছিল কৃষিজমি। সেই জমির দখল নিয়েই ঝামেলা শুরু হয়। বুধবার জমির দখল নিতে এলাকায় যান গ্রামের প্রধান এবং তাঁর সঙ্গীরা। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় গ্রামবাসীরা। এর পরেই শুরু হয় ঝামেলা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তাঁরা বাধা দেওয়ায় কোনও কথা না বলেই গুলি চালাতে শুরু করে গ্রাম প্রধানের সাঙ্গোপাঙ্গরা। পুলিশ জানিয়েছে দু’পক্ষের এই সংঘর্ষে হাজির ছিল প্রায় ১০০ জন লোক।
শুক্রবার ওই এলাকায় যাওয়ার পথেই আটকে দেওয়া হয় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়াকে। ফিরতে না চাইলে সনিয়া-কন্যাকে আটক করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পরে অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রিয়ঙ্কা যাওয়ার আগে থেকেই সেখানে বিরাট পুলিশবাহিনী মোতায়েন করেছিল প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল পুলিশ।
কিন্তু তৃণমূলের প্রতিনিধি দল সোনভদ্রে কেন?
লোকসভার প্রায় এক বছর আগে থেকে নিজেদের জাতীয় স্তরে তুলে ধরার ধারাবাহিক চেষ্টা করে গিয়েছে তৃণমূল। জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকরণের সময়ে অসমে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনসুকিয়ায় পাঁচ বাঙালি হত্যার পরও ডেরেক, মহুয়া মৈত্রদের পাঠিয়েছিলেন মমতা। পর্যবেক্ষকদের মতে, সেটাকেই জারি রাখতে চাইছে তৃণমূল।