দ্য ওয়াল ব্যুরো: অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা নিয়ে কদিন আগে নরেন্দ্র মোদী সরকারের সমালোচনা করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এ বার যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর শর্ত লঙ্ঘনের জন্য ফের মোদীর সমালোচনা করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। বললেন, পঞ্চদশ অর্থকমিশন মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়া একতরফা যে সব শর্ত আরোপ করছে, তা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জন্য ভাল নয়। মুখ্যমন্ত্রীদের বক্তব্য সরকারের শোনা উচিত।
কর আদায় থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে কী শর্তে ভাগাভাগি হবে, তা নিয়ে বার বার বিতর্ক হয়েছে অতীতে। কেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে মনমোহন সিং যখন প্রধানমন্ত্রী, চতুর্দশ অর্থ কমিশন এ ব্যাপারে রাজ্যগুলির দাবি অনেকটাই মেনে নিয়েছিল। তখনও ভালমতোই বেঁচে ছিল যোজনা কমিশন। রাজ্যগুলির দাবি ছিল, কোন রাজ্যে কোন প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি তা বোঝা কেন্দ্রের কম্ম নয়। তার অধিকার রয়েছে রাজ্যেরই। যোজনা কমিশন এক মাপের জুতো বানিয়ে সবার পায়ে পরাতে চাইছে। কিন্তু রাজ্যগুলিকে তাদের নিজেদের পায়ের মাপ অনুযায়ী জুতো বানাতে দেওয়া হোক। সেই দাবি মেনে নিয়ে চতুর্দশ অর্থ কমিশনের সুপারিশে রাজ্যগুলিকে অধিকতর বরাদ্দ দেওয়ার কথা ঘোষণা হয়েছিল।
কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেই জওহরলাল নেহরু জমানায় প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যশালী যোজনা কমিশন ভেঙে দিয়েছেন মোদী। পরিবর্তে নীতি আয়োগ তৈরি করেছেন। এ বার এন কে সিং কে চেয়ারম্যান করে পঞ্চদশ অর্থ কমিশন গঠন করেছে তাঁর সরকার। নতুন কমিশন কিছু শর্ত আরোপ করাও শুরু করেছে।
শনিবার সে প্রসঙ্গেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, অর্থ কমিশনের শর্ত পরিবর্তন একতরফা হতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রীদের সম্মেলন ডেকে সেখানে আলোচনা করে তবেই তা করা উচিত। নইলে এই ধারনা তৈরি হবে যে কেন্দ্র রাজ্যের সম্পদের উপর জোর করে কব্জা করছে। মনমোহনের কথায়, একদিকে যখন সমন্বয়মূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর নামে শপথ নেওয়া হচ্ছে, তখন কাজে উল্টোটি করা হচ্ছে কেন?
বলে রাখা ভাল প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদী বারবার সমন্বয়মূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কথা বলেছেন। অর্থাৎ উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে চলবে কেন্দ্র। যদিও বাস্তবে অভিযোগ হল, কেন্দ্র কোনও সমন্বয় করে চলছে না। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আকছার অভিযোগ করেন যে রাজ্যের প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর শর্ত লঙ্ঘন করে রাজ্যকে বরং বিপাকে ফেলতে চাইছে। মনমোহন এ দিন আরও বলেন, অর্থকমিশনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে থেকেই কাজ করা উচিত বলে জানতাম। এই সরকার সে সব মানব কিনা জানি না।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে লাগাতার মোদী সরকারের অর্থনীতি ও দর্শনের সমালোচনা করছেন তাতে পর্যবেক্ষকরা অবশ্য সনিয়া গান্ধীর রাজনীতির ছাপও দেখছেন। তাঁদের মতে, মোদীর প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করতে সনিয়া কৌশলে মনমোহনকে ব্যবহার করছেন। তিনি ভালমতো জানেন, গোটা দেশে এবং আন্তর্জাতিক মহলে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে মনমোহনের এখনও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি ঘরোয়া অর্থনীতি নিয়ে কিছু বললে মানুষ তা সিরিয়াসলি নেয়। সেই কারণেই তাঁকে ধারাবাহিক মোদীর সমালোচনা করাচ্ছেন সনিয়া। সাধারণ মানুষ সেই সব যুক্তি তর্ক কতটা গ্রহণ করবে সেটা সময় বলবে।