দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ করোনা সংক্রমণ রুখতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চলছে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। আর ভারতে যে দুই সংস্থা এই ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে তা হল সেরাম ইন্সটিটিউট ও ভারত বায়োটেক। এবার এই দুই ইন্সটিটিউট করোনার ন্যাজাল ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করতে চলেছে এমনটাই জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।
রবিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষ বর্ধন এই কথা জানান। তিনি বলেন, ড্রাগ কন্টোলার জেনারেলের কাছ থেকে অনুমতি পেলেই আগামী দিনে ভারতে ইন্ট্রান্যাজাল কোভিড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করতে চায় সেরাম ইন্সটিটিউট ও ভারত বায়োটেক। বেশ বড় আকারে এই ট্রায়াল হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। হর্ষ বর্ধনের কথায়, এই শেষ মুহূর্তের ট্রায়ালে অনেক বেশি স্বেচ্ছাসেবকের দরকার পড়ে। কখনও সংখ্যাটা ৩০ থেকে ৪০ হাজারও হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-এর তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যে ভ্যাকসিন গুলির তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে, সেগুলি সবই ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দেওয়া যায়। আর তাই এই ন্যাজাল ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের দিকেও ঝোঁক বাড়ছে সংস্থাগুলির।
এর মধ্যেই শনিবার জানা গিয়েছে, ভারতে রাশিয়ার ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ও ডক্টর রেড্ডি’জ ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড ভারতে এই রাশিয়ার ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করছে। মাঝে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আবার তা চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
অন্যদিকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআরের তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে রেমডেসিভিরের মতো কিছু বহুল ব্যবহৃত ড্রাগের প্রভাব রোগীর শরীরের উপর পড়ছে না। তাই এই ওষুধের ব্যবহারের কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।
ভারতে দৈনিক করোনা সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমছে। দু’সপ্তাহ আগেও যেখানে দৈনিক ৯০ হাজারের বেশি আক্রান্ত দেখা দিত, সেখানে বর্তমানে তা ৬০ হাজারের ঘরে রয়েছে। গতকাল কেন্দ্রের একটি প্যানেলের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে করোনাভাইরাসের শিখর পেরিয়ে গিয়েছে। তাই এবার সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে কেন্দ্রের প্যানেল আরও জানিয়েছে, সামনের উৎসবের মরসুমে যদি সতর্কতা না নেওয়া হয় তাহলে হঠাৎ করে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পুজোর মরসুমে এক মাসে প্রায় ২৬ লাখ নতুন আক্রান্ত হতে পারে। তাই দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।