দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ ও তার জেরে লকডাউন হওয়ায় দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল কল-কারখানা। মাসখানেক আগে থেকে তা ধীরে ধীরে শুরু হলেও অনেক জায়গায় তা ঠিকভাবে কাজ শুরু করেনি। কোথাও আবার কারখানা থাকলেও কাঁচামাল নিয়ে যাওয়ার অসুবিধে রয়েছে। সেইসঙ্গে ক্রেতাও পাওয়া যাচ্ছে না। এই সব সমস্যার কারণে নিজের জমির ৫ লাখ টাকার আখ জ্বালিয়ে দিলেন পঞ্জাবের এক চাষি।
জানা গিয়েছে, পঞ্জাবের ফরিদকোটের ওই চাষি জগতার সিং নিজের ক্ষেতের আখ মিল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেননি। কিছু আখ তিনি স্থানীয় ছোট জুসের দোকানদারদের বিক্রি করেছেন। কিন্তু লকডাউনের পর থেকে তাঁদেরও দেখা পাওয়া যায়নি। তার ফলে গত তিন মাস ধরে কিছুই বিক্রি করতে পারেননি তিনি। তাই বিক্রি করার কোনও মাধ্যম না থাকায় বাধ্য হয়ে আখে আগুন ধরিয়ে দেন জগতার।
সংবাদমাধ্যমকে জগতার জানিয়েছেন, “আমি ২ একর জমির উপর আখ লাগিয়েছিলাম। এক একরে ৪০০ কুইন্টাল আখ হয়। সেই হিসেবে ৫ লাখ টাকার বেশি আখ হয়েছিল। এই এলাকার চিনির কারখানা বন্ধ। কৃষি দফতরের কেউ আমার সঙ্গে দেখা করেননি। আগে ছোট জুসের দোকানদারদের কিছু কিছু আখ বিক্রি করছিলাম। কিন্তু লকডাউনে তারাও বাড়ি চলে গিয়েছে। তাই আমাকে আখ জ্বালিয়ে দিতে হয়েছে। কারণ ওই জমি আমাকে পরিষ্কার করে এবার ধান লাগাতে হবে।” জগতারের দাবি তাঁর এই ক্ষতির জন্য সরকারের তরফে তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।
জগতারের মতো আরও অনেকের আখের ক্ষেত রয়েছে ফরিদকোটে। তাঁরা অবশ্য এখনও আশা রাখছেন কোনও উপায়ে তাঁদের ক্ষেতের আখ বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু কতদিন এই আশা ধরে রাখতে পারবেন, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
মার্চ মাসে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করার পরে পঞ্জাব সরকার জানিয়েছিল, চাষিদের বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে। যাতে ফসল ফলাতে তাঁদের কোনও সমস্যা না হয়। কিন্তু তারপরেও ফসল পরিবহণের সমস্যা ও কারখানা বন্ধ থাকার কারণে সমস্যার মুখে পড়েছেন অনেকে।
এমনকি ১৫ এপ্রিল থেকে পঞ্জাবে গম কাটা শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারের তরফে এক টোকেন সিস্টেম নিয়ে আসা হয়। এই সিস্টেমের মাধ্যমে চাষিদের উৎপাদিত ফসল পরিবহণ ও বিক্রির বন্দোবস্ত করা হয়। কিন্তু সেখানেও প্রশাসনিক স্তরে অনেক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর ফলে সময় ফসল পরিবহণ না করতে পেরে অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েন।