ফণীতে ভেঙেছে ঘর, টয়লেটেই বাঁধলেন নতুন সংসার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘূর্ণিঝড় ফণীর দাপটে ভেঙে পড়েছে তাঁর মাটির বাড়ি। স্ত্রী, মেয়েদের নিয়ে বসতে হয়েছে পথে। মাথা গোঁজার ঠাইটুকুও নেই। অগত্যা, সরকারি প্রকল্পে পাওয়া পাকা টয়লেটকেই ঘর বানিয়ে ফেললেন ওড়িশার কেন্দ্রপাড়া জেলার রঘুদেইপুরের বাসিন্দা ক্ষীর
শেষ আপডেট: 18 May 2019 11:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘূর্ণিঝড় ফণীর দাপটে ভেঙে পড়েছে তাঁর মাটির বাড়ি। স্ত্রী, মেয়েদের নিয়ে বসতে হয়েছে পথে। মাথা গোঁজার ঠাইটুকুও নেই। অগত্যা, সরকারি প্রকল্পে পাওয়া পাকা টয়লেটকেই ঘর বানিয়ে ফেললেন ওড়িশার কেন্দ্রপাড়া জেলার রঘুদেইপুরের বাসিন্দা ক্ষীরোদ জানা। ফণীর পর থেকেই সেখানেই রয়েছে চারজনের এই দলিত পরিবার।
ক্ষীরোদবাবু পেশায় দিনমজুর। দিন আনি দিন খাইয়ের সংসারে মাথা গোঁজার জন্য ছিল একটা মাটির বাড়ি। ৩ মে ফণী এসে আছড়ে পড়ে ওড়িশার এই গ্রামে। প্রবল ঝড়ে ভেঙে পড়ে তাঁর বাড়ি। কোনও রকমে প্রাণে বেঁচে যান তাঁরা। ফণী আসার দিন দুয়েক আগেই প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের আওতায় একটি ৬ ফুট বাই ৭ ফুটের পাকা টয়লেট পেয়েছিলেন তিনি। ব্যবহার করাও শুরু করেননি। ঝড়ের সময় সেখানেই আশ্রয় নিয়েছিল পুরো পরিবার। তারপর থেকে সেটাই তাঁদের ঘর হয়ে গিয়েছে। এই এক চিলতে জায়গাতেই দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে কোনওন রকমে থাকছেন ক্ষীরোদবাবু।
৫৮ বছরের ক্ষীরোদ জানা জানিয়েছেন, "ঘূর্ণিঝড়ে আমার বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু আমার পাকা টয়লেট অক্ষত আছে। আমার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই আমি টয়লেটেই থাকছি। ঠিকমতো চারজনে শোয়াও যায় না সেখানে। জানি না কতদিন আমাকে এভাবে থাকতে হবে।" ঘূর্ণিঝড়ে তছনছ হয়ে গেছে সবকিছু। নতুন করে বাড়ি বানানোর ক্ষমতা তাঁর নেই। তাই আপাতত সরকারের দিকেই তাকিয়ে তিনি।

ক্ষীরোদবাবু বলেছেন, "যতদিন না আমার আর্জি শুনে সরকারের তরফ থেকে কোনও ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে, ততদিন এই টয়লেটেই আমাকে থাকতে হবে।" টয়লেটকে বাড়ি বানানোই এই মুহূর্তে প্রাতঃকৃত্যের কাজ সারতে অবশ্য মাঠেই যেতে হচ্ছে তাঁদের। সরকারের কাছে তিনি আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, "আমি অনেকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ও বিজু পাক্কা ঘর প্রকল্প, দুটোতেই আবেদন করেছি। কিন্তু আমার আবেদনে সাড়া দেওয়া হয়নি। যদি আমাকে ঘূর্ণিঝড়ের আগেই একটা পাকা বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে আজকে আমার এই অবস্থা হতো না।"
ক্ষীরোদ জানার কথা শুনেছেন সেখানকার ডিসট্রিক্ট রুরাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির প্রজেক্ট ডিরেক্টর দিলীপ কুমার পারিদা। তিনি জানিয়েছেন, "আমি শুনেছি, একটা পরিবার তাদের মাটির বাড়ি ভেঙে পড়ার পর টয়লেটে থাকা শুরু করেছে। আমাদের প্রকল্পের তরফ থেকে সেই পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও বাড়ি তৈরির সাহায্যও করা হবে।"
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/first-person-account-of-rudraprasad-halder-one-of-the-alive-climbers-from-kanchenjunga/