দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসারে আক্রান্ত ১৩ বছরের কিশোর জগদীশ গিরির অস্ত্রোপচারের দরকার ছিল। কিন্তু চিকিৎসকরা দেখেন তার ব্লাড গ্রুপ এ, বি, এবি বা ও নয়। তার ব্লাড গ্রুপ এক বিশেষ ধরণের ( এইচএইচ )। মেডিক্যাল সায়েন্স বলছে, প্রতি ১০ হাজার ভারতীয়র মধ্যে এক জনের এই ধরণের ব্লাড গ্রুপ দেখা যায়। এই ব্লাড গ্রুপকে বলা হয় বম্বে গ্রুপের রক্ত।
কিন্তু কেন একে বম্বে গ্রুপের রক্ত বলা হয়? কীভাবে এল এই নাম?
১৯৫২ সাল। বম্বে। শেঠ গোর্ধনদাস সুন্দরদাস মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে দুই রোগীকে। একজন রেলের কর্মী। অন্যজন ছুড়ির আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি। দুজনেরই রক্ত দরকার। কিন্তু ড. ওয়াইএম ভেন্ডে, ড. সিকে দেশপাণ্ডে ও ড. এইচএম ভাটিয়া যে রক্তই দু'জনের শরীরে ঢোকাচ্ছিলেন, তা জমাট বেঁধে যাচ্ছিল। প্রায় ১৬০ জন দাতার কাছ থেকে রক্ত নেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, এই ১৬০ জনের মধ্যে তৎকালীন বম্বেরই বাসিন্দা এক ভদ্রলোকের রক্ত দুই রোগীর রক্তের সঙ্গেই মিলে গেছে। তারপরেই ওই তিন চিকিৎসক এই রক্তের গ্রুপের নাম দেন 'বম্বে গ্রুপ'। পরবর্তীকালে ডাক্তারি পরিভাষায় একে 'এইচএইচ' গ্রুপের রক্ত বলা হয়।
কিন্তু কীভাবে তৈরি হয় এই বিরল গ্রুপের রক্ত?
এর জন্য একটু বায়োলজির মধ্যে ঢোকা যাক। রক্তে থাকে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা, অনুচক্রিকা ও প্লাজমা। এই লোহিত রক্তকণিকা ও প্লাজমার উপর নির্ভর করেই বিভিন্ন রক্তের গ্রুপ নির্ণয় হয়ে থাকে। এইজন্য প্রতিটা গ্রুপ একে অন্যের থেকে আলাদা হয়। রক্ত দান বা গ্রহণ করার সময় সে জন্যই সবাই সবার কাছে থেকে নিতে পারে না, বা গ্রহণ করতে পারে না। 'এ' গ্রুপের রক্ত যেমন 'এ' এবং 'ও' গ্রুপের থেকে নিতে পারে, কিন্তু দিতে পারে 'এ' ও 'এবি' গ্রুপের গ্রাহককে। 'বি' গ্রুপের রক্তও নিতে পারে 'বি' এবং 'ও' গ্রুপ থেকে। কিন্তু দিতে পারে 'বি' ও 'এবি' গ্রুপকে। 'এবি' গ্রুপের রক্ত 'এ', 'বি' এবং 'ও' তিন গ্রুপের থেকেই নিতে পারে বলে একে সার্বিক গ্রহীতা বলে, কিন্তু দিতে পারে শুধু 'এবি' গ্রুপকেই। অন্যদিকে 'ও' গ্রুপ সবাইকে রক্ত দিতে পারে বলে সার্বিক দাতা বলে, অথচ তারা নিতে পারে শুধুমাত্র 'ও' গ্রুপ থেকেই। আর বম্বে গ্রুপের রক্ত অর্থাৎ 'এইচএইচ' রক্ত শুধুমাত্র নিজের গ্রুপকেই দিতে পারে। আবার নিতেও পারে নিজের গ্রুপের থেকেই। আর সে জন্যই এই গ্রুপের রক্ত সবথেকে বিরল প্রজাতির বলা হয়।
কিন্তু কেন এই গ্রুপের রক্ত এত বিরল?
মেডিক্যাল সায়েন্স বলছে, প্রতি ১০ হাজার ভারতীয়র মধ্যে মাত্র ১ জনের মধ্যে পাওয়া যায় এই রক্ত। এর অন্যতম কারণ হিসেবে বলা যায় কমিউনিটির মধ্যেই বিয়ের প্রবণতা। জিপসি, রাশিয়ান ইহুদি ও পার্সি প্রভৃতি সম্প্রদায় কখনওই নিজেদের সম্প্রদায়ের বাইরে যায় না। বিয়ে হয় নিজেদের মধ্যেই। ফলে পূর্বপুরুষদের মধ্যে জিনগত মিল থাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গমে জন্ম নেওয়া সন্তানদের মধ্যে অনেক সময় এই বিরল প্রজাতির রক্ত দেখা যায়। যদিও এর সংখ্যা কিন্তু কম। বম্বেতে পার্সি সম্প্রদায়ের লোকেরা বহুদিন ধরে রয়েছেন। আর তাই হয়তো বম্বেতে এই বিরল গ্রুপের রক্ত দেখা যায় প্রথম।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-patient-party-accused-blood-banks-as-they-have-to-buy-rare-group-blood-for-1900-rupees/