দ্য ওয়াল ব্যুরো : সাত মাস আগে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ ই মহম্মদ-এর প্রশিক্ষণ শিবির গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই শিবির ফের সক্রিয় হয়েছে, এমনটাই খবর গোয়েন্দা রিপোর্টে। জানা গিয়েছে, এই শিবিরে বর্তমানে ৪০ জন জেহাদিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের ভারতে পাঠানোর ছক কষছে জঙ্গিরা।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জম্মু-কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়ার পর থেকেই সক্রিয় হয়েছে জঙ্গিরা। তাদের প্রত্যক্ষ মদত দিচ্ছে পাক সেনা। জঙ্গিদের বিষয়ে কড়াকড়ি একদমই কমিয়ে দেয় পাক প্রশাসন। এমনকী জানা গিয়েছে, জইশ-এর হাত ধরেই ভারতে সন্ত্রাস চালাতে চাইছে পাকিস্তান।
১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে সিআরপিএফ কনভয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানোর ঠিক ১৩ দিনের মাথায় পাক অধিকৃত কাশ্মীরের খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকায় বালাকোটে অবস্থিত মারকাজ সৈয়দ আহমেদ শাহিদ প্রশিক্ষণ শিবিরের উপর হামলা চালায় ১২টি মিরাজ বাইসন যুদ্ধবিমান। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এই শিবির। এই ঘটনায় অনেক জঙ্গি নেতা ও শিবিরে থাকা জঙ্গিরা খতম হয় বলেও দাবি করে ভারতীয় বায়ুসেনা। যদিও ঘটনার পর থেকে বরাবরই পাকিস্তান এই হামলার কথা অস্বীকার করে এসেছে।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ৫ অগস্টের পর থেকে তৎপরতা শুরু হয় পাকিস্তানে। জইশ ই মহম্মদের কম্যান্ডার মুফতি আবদুল রৌফ আসগার রাওয়ালপিন্ডিতে আইএসআই দফতরে বৈঠক করেন। সেখানেই এই জঙ্গি শিবির ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গোয়েন্দা রিপোর্টে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র জম্মু-কাশ্মীর নয়, জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে গুজরাত ও মহারাষ্ট্রও। এ বার আভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। ইতিমধ্যেই কাশ্মীরের জঙ্গি সংগঠন, যেমন আল উমনার মুজাহিদিন প্রভৃতির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে তারা।
জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই মানসেরা, গুলপুর, কোটলি প্রভৃতি এলাকায় নতুন জঙ্গি ভর্তি করা শুরু করেছে জইশ। সবাইকে বালাকোটে নিয়ে এসে প্রশিক্ষণ দিয়ে হামলার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও চারসাদা, মর্দান, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রভৃতি এলাকায় জঙ্গিদের ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। একাধিক জায়গা দিয়ে সীমান্তে চাপ বাড়ানোর জন্যই এই পরিকল্পনা নিয়েছে জঙ্গিরা।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই পুঞ্চ ও রাজৌরি সেক্টর দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের জন্য ১০০ জঙ্গি তৈরি আছে। জানা গিয়েছে, জঙ্গি নেতা মুফতি আসগার নিজে গিয়ে সেখানে অপেক্ষায় থাকা জঙ্গিদের নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে মুহূর্তে ভারতীয় সেনার সুরক্ষায় কোনও গাফিলতি ধরা পড়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে আক্রমণ করতে।
গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র জইশ নয়, পাকিস্তানের আর এক জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তৈবাও তাদের একাধিক প্রশিক্ষণ শিবির ফের চালু করেছে। মীরপুর, সিয়ালকোট, লাহোরের একাধিক জায়গায় রয়েছে এই সব শিবির। তৃতীয় জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনও তাদের জঙ্গিদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তাদের মূলত গুরেজ সেক্টরে মোতায়েন থাকতে বলা হয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক আধিকারিক এই গোয়েন্দা রিপোর্টের কথা স্বীকার করেছেন। তবে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সেনারা সব রকমের পরিস্থিতির জন্য তৈরি আছে। কোনও ভাবেই জঙ্গিদের সন্ত্রাস ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না বলেই জানানো হয়েছে।

https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/