দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েক দিনে ভারতের সঙ্গে সঙ্গে অসমেও করোনা সংক্রমণের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। এই অবস্থায় রবিবার অসমের রাজধানী গুয়াহাটির জন্য সতর্কবার্তা দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর বক্তব্য, গুয়াহাটিতে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে।
গুয়াহাটিতে গত ১০ দিনে ২৭০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন নভেল করোনাভাইরাসে। এই মুহূর্তে অসমে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১,০০১। এই পরিস্থিতিতে শহরে একটি কনফারেন্সে হিমন্ত বিশ্বশর্মা রবিবার বলেন, “এবার গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এই সঙ্গেই গুয়াহাটি এবার অতিমারীর পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই সংক্রমণ এবার আরও বাড়তে থাকবে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অসম সরকার র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করেছে। আরটি-পিসিআর টেস্টে রিপোর্ট আসতে ৩ থেকে ৪ দিন লাগছিল। আরও তাড়াতাড়ি রিপোর্ট পাওয়ার জন্য এই টেস্ট শুরু হয়েছে।
রবিবার গুয়াহাটিতে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক। একদিনে ৭৭৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন নতুন করে। একদিনে যা নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার অন্তত ৩০ শতাংশের রিপোর্ট পজিটিভ মিলেছে। একদিনে অসমে আক্রান্তের সংখ্যা ১২০০-র বেশি। গত ১০ দিনে অসমে আক্রান্ত হয়েছে ৪৯৪৫ জন।
গত ২৯ জুন থেকে গুয়াহাটিতে ১৪ দিনের কড়া লকডাউন শুরু হয়েছে। তার মধ্যে চারদিন কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই ছাড়ের মধ্যে বেলা ১১টা বিকেল ৪টে পর্যন্ত শহরের মধ্যে শুধুমাত্র মুদিখানার দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও বাজার এলাকায় কোনও দোকান খুলবে না বলেই জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্তত মঙ্গলবার পর্যন্ত এভাবেই সংক্রমণ বাড়বে। তারপর কিছুটা কমতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি ৮ অথবা ৯ জুলাই থেকে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমবে। বর্তমানে যে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে তাদের মধ্যে লকডাউনের আগে করা নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট ও অ্যান্টিজেন পরীক্ষার রিপোর্ট দুটোই রয়েছে।”
যদিও প্রশাসন সূত্রে খবর, অসমে ডাবলিং রেট বেড়েছে। আগে যেখানে ১০ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছিল, সেটা এখন বেড়ে ১৩ দিন হয়েছে। কিন্তু ২২ লাখ জনসংখ্যার গুয়াহাটিকে নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছেই।
গত বুধবার হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, গুয়াহাটি শহর ও তার আশেপাশে কোভিড ১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে ১৫৩৮টি বেড রয়েছে। তার মধ্যে ৯৮৭ টি বেড ভর্তি রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর চেষ্টা করছে, এই সপ্তাহের মধ্যেই বেডের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০০০ করার। যদিও এই ঘোষণার পর থেকে এই শহরে আক্রান্তের সংখ্যা আরও ১৮৭২ বেড়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, গুয়াহাটিতে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় ১৪১৪ আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই আক্রান্তের সংখ্যার ঘনত্ব যত বাড়বে, গোষ্টী সংক্রমণের তত সম্ভাবনা রয়েছে। এই মুহূর্তে এই শহরে হোম আইসোলেশনে থাকা নিরাপদ নয় বলেও জানিয়েছেন বিশ্বশর্মা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধুমাত্র তাদেরই হোম আইসোলেশনে থাকার অনুমতি দেব, যারা কোনও বিশেষজ্ঞ কিংবা ডাক্তার ও পরিবারের লোকের চিঠি আমাদের দেখাতে পারবে যে বাড়িতে থাকার সব রকমের বন্দোবস্ত রয়েছে। গুয়াহাটিতে হোম আইসোলেশন হয়তো কার্যকর হবে না। সরকারের তরফে বাড়িতে জরুরি মেডিক্যাল পরিষেবা দেওয়া এই মুহূর্তে সম্ভব নয়।”