নমুনা পরীক্ষার রেজাল্টে দেরি হওয়ায় দিল্লিতে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, অভিযোগ কেজরিওয়াল সরকারের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে কোভিড ১৯ নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ার ফলেই কনটেইনমেন্ট জোনে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ করল দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকার। কখনও রিপোর্ট পেতে ১০ দিনের উপর সময় লেগে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদ
শেষ আপডেট: 29 April 2020 03:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে কোভিড ১৯ নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ার ফলেই কনটেইনমেন্ট জোনে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ করল দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকার। কখনও রিপোর্ট পেতে ১০ দিনের উপর সময় লেগে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কাছে অভিযোগ করেছে তারা।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন ভিডিও কলে দিল্লি সরকার ও সেখানে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেই বৈঠকেই দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন অভিযোগ করেন, “দিল্লিতে কনটেইনমেন্ট জোনগুলি অনেক বড়। ফলে নজরদারি চালানোয় সমস্যা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নমুনা জমা দেওয়ার পরে অনেক দিন সময় লেগে যাচ্ছে রিপোর্ট পেতে। ফলে সমস্যা হচ্ছে প্রশাসনের।”
এই বৈঠকে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বাইজাল জানান, যদি কনটেইনমেন্ট জোনগুলো ছোট করা সম্ভব হয়, তাহলে দিল্লিকে রেড জোন থেকে অরেঞ্জ জোনে আনা সম্ভব। কনটেইনমেন্ট জোনগুলিকে ছোট করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি। এর ফলে কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা আরও বাড়বে।
এখনও পর্যন্ত রাজধানীতে ৯৮টি কনটেইনমেন্ট জোন রয়েছে। তার মধ্যে ১১টি জোনের জনসংখ্যা এক লক্ষের বেশি। এর ফলে এই জোনগুলিতে বাইরে থেকে ব্যারিকেড করে দিলেও ভেতরে মানুষের চলাচল হচ্ছে। ফলে সংক্রমণ বাড়ছে। প্রতিটা গলি-রাস্তায় নজর রাখা সম্ভব হচ্ছে না প্রশাসনের তরফে।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা রাম মনোহর লোহিয়া ও অন্যান্য হাসপাতালের ডাক্তাররা জানিয়েছেন। কাজের চাপে রিপোর্ট দিতে দেরি হচ্ছে। দিল্লিতে সে ল্যাবরেটরি রয়েছে, সেখানে পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকেও নমুনা আসছে। ফলে সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যা মেটাতে বেসরকারি ল্যাবরেটরিগুলোতেও নমুনা পরীক্ষার অনুমতি চাওয়া হয়েছে তাদের তরফে।
এই প্রসঙ্গে কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন এক স্বাস্থ্য কর্তা। তিনি বলেন, জাহাঙ্গিরপুরি এলাকা থেকে ৭৭ ও আজাদপুর মান্ডি থেকে ৫৬টি নমুনা পাঠানো হয়েছিল। এখনও রিপোর্ট আসেনি। জাহাঙ্গিরপুরি এলাকায় তো অনেকের নমুনা পাঠানো ১৪ দিন হয়ে গেল। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লি থেকে ১৬ এপ্রিল নমুনা পাঠানো হয়েছে। এখনও রিপোর্ট আসেনি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট হাতে পেয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজে হবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
দিল্লিতে এখনও পর্যন্ত কোভিড ১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ৩১০৮। তারমধ্যে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৮৭৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। রাজধানীতে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ৯৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। যদিও দিল্লিতে আক্রান্তদের ৮০ শতাংশ উপসর্গহীন বলেই জানিয়েছেন এক স্বাস্থ্য অধিকর্তা। এর ফলে সমস্যা আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।