দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের তাত পাত্তি এলাকায় বৃহস্পতিবার ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধে গেছিল। অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল জনতা। ছোড়া হয়েছিল পাথর। কিন্তু তাতেও পিছু হঠলেন না 'আক্রান্ত'রা। শুক্রবার সকালে আবার ওই এলাকাতেই পৌঁছে গেলেন চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীরা।
ওই মেডিক্যাল টিমের অন্যতম চিকিৎসক জাকিয়া সইদ গতকাল জনরোষের মুখে পড়েছিলেন। আজ তিনি বলেন, "আমাদের আঘাত লেগেছে ঠিকই। কিন্তূ তাই বলে এই পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের দায়িত্ব, কর্তব্য থেকে সরে আসতে পারি না।"
তাত পাত্তি এলাকায় ৫৪টি পরিবারকে হোম-আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আরও কয়েকটি পরিবারকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠাবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অসন্তোষ দানা বাঁধে এখান থেকেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা করছেন ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, স্ক্রিনিং করতে এসে তাঁদের হেনস্থা করা হচ্ছে। গতকাল স্বাস্থ্যকর্মীরা এলাকায় পৌঁছলে তাদের দিকে ইট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করে এলাকাবাসী। মারধরের চেষ্টা হয় ডাক্তারদের। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্ধার করে পুলিশ। প্রসঙ্গত, গতকাল রাতেই জানা যায় ইন্দোরের আরও ১৯ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ মিলেছে।
গতকাল একই ঘটনা ঘটেছিল কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। জনতার মারে হাত ভেঙে গিয়েছিল এক আশা কর্মীর।
করোনা-যুদ্ধে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্ত বিচ্ছিন্ন হলেও বহু জায়গায় দেখা গিয়েছে তাঁদের উপর আক্রমণ, হামলা। বাংলাতেও চিকিৎসক দম্পতিকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছিল প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারির সুরে বলেছিলেন, চিকিৎসক, নার্সদের হেনস্থা করলে বরদাস্ত করা হবে না।
ইন্দোরের তাত পাত্তি দেখিয়ে দিল, এই স্বাস্থ্য সঙ্কটের সময়ে ঠিক কতটা অবিচল চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা।
ছবি সৌজন্যে- এএনআই টুইটার