দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ডের রাস্তায় নজরে এসেছে এক স্নো লেপার্ড বা তুষার চিতাবাঘ। রাস্তা পেরিয়ে পাহাড়ের গা বেয়ে উঠে পড়তেও দেখা গিয়েছে তাকে।
বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই তুষার চিতাবাঘ বন্যপ্রাণীদের মধ্যে অন্যতম বিরল প্রজাতির। এবং বর্তমানে এদের অস্তিত্বও সংকটে। বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীর তালিকায় ঠাঁই হয়েছে এই তুষার চিতাবাঘ বা স্নো লেপার্ডের। উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার নেলং ভ্যালির-র কাছে দেখা গিয়েছে এই স্নো লেপার্ডটিকে। প্রায় ১১ হাজার ফুট উঁচুতে গঙ্গোত্রী ন্যাশনাল পার্কের কাছেই রয়েছে এই নেলং ভ্যালি।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর হিমালয়ের কোলে দেখা মিলেছে এই বিরল প্রজাতির তুষার চিতাবাঘের। এই ঘটনা বন্যপ্রাণীদের নিয়ে যাঁরা রীতিমতো চর্চা করেন, তাঁদের যথেষ্ট কৌতূহলী করে তুলেছে। ভারতে যে সমস্ত ন্যাশনাল পার্ক অত্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত, তার মধ্যে গঙ্গোত্রী ন্যাশনাল পার্ক অন্যতম। এই ন্যাশনাল পার্কের কাছেই নেলং ভ্যালিতে দেখা গিয়েছে ওই তুষার চিতাবাঘটিকে। চিনের বর্ডার থেকে এই নেলং ভ্যালির দূরত্ব খুব বেশি নয়। এই এলাকায় সারা বছর পোস্টিং থাকে ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশের ফোর্স। নেলং ভ্যালিতেই ফ্লোরা এবং ফনা-ও সংরক্ষণ করে এই পুলিশবাহিনী।
উত্তরাখণ্ড ছাড়াও ভারতের আরও বেশ কিছু জায়গায় দেখা যায় এই তুষার চিতাবাঘ। হিমাচল প্রদেশ, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশের পাহাড়ি রাস্তাতেও দেখা যায় এই স্নো লেপার্ডদের। কিন্তু উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি রাস্তায় এই বিরল প্রজাতির স্নো লেপার্ড কী ভাবে চলে এল এখন সেই ব্যাপারেই প্রশ্ন উঠছে সকলের মনে। এমনিতেই নানান বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী এই এলাকায় দেখা যায়। হিমালয়ান ব্লু শিপ এবং মাস্ক ডিয়ার দেখা যায় এই এলাকায়। দেখা যায় তুষাড় চিতাবাঘও কিন্তু এ বার দীর্ঘদিন পর এই স্নো লেপার্ডটিকে দেখা গিয়েছে।
উত্তরকাশীর এই নেলং ভ্যালি এমনিতেও একটি কড়া নিরাপত্তায় মোড়া এলাকা। সে কেউ যখন-তখন এখানে ঢুকতে পারে না। এমনকী পর্যটকদেরও এই নেলং ভ্যালিতে আসতে গেলে বিশেষ পারমিট নিয়ে আসতে হয়। দেরাদুন থেকে এর দূরত্ব ৩১৫ কিলোমিটার। আর গঙ্গোত্রী থেকে এর দূরত্ব ২৩ কিলোমিটার।
গঙ্গোত্রী ন্যাশনাল পার্কেও রয়েছে নানা বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণ। রয়েছে বিরল এবং বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির চিতাবাঘও। তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েছে একটা? এই প্রশ্নও উঠছে। এ ব্যাপারে অবশ্য ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়নি। এমনকী তাদের পার্কে এ ধরণের চিতাবাঘ ছিল কি না সেটাও জানা যায়নি নিশ্চিত ভাবে।