দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির এক ব্যবসায়ীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল পুলিশের কাছে। এক নাবালকের মাধ্যমে তাকে খুন করার জন্য সুপারি দিয়েছিলেন গৌরব বনসাল নামের ওই ব্যবসায়ী। পুলিশ মনে করছে দেনায় ডুবে যাওয়া পরিবারের হাতে বিমার টাকা দিতেই শেষপর্যন্ত এই কৌশল নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী।
দিল্লির আইপি এক্সটেনশন এলাকার বাসিন্দা এই ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে। একটি গাছের ডালে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় গৌরবের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সময়ে তার হাত-পা বাঁধা ছিল।
ব্যবসায়ীর স্ত্রী শানু বনসাল পুলিশকে জানিয়েছেন, ৯ জুন রাতে নিজের দোকান থেকে বেরোনোর পর আর ফেরেননি গৌরব। গভীর রাতে পরিবারের লোক নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরদিন সকালে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, ৬ লক্ষ টাকা ঋণ ছিল ওই তাঁর স্বামীর। এ ব্যাপারে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। সেইসঙ্গে এও জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ক্রেডিটকার্ড জালিয়াতি হয় তাঁর স্বামীর সঙ্গে।
মৃতদেহের কাছ থেকেই ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ। সেই কল রেকর্ড ঘেঁটে তদন্ত এগোয় পুলিশ। তাতে দেখা যায় এক নাবালককে এই কাজে নামিয়েছিলেন তিনি। ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর তাঁকে চেনার জন্য ছবি পাঠিয়ে দেন। তারপর এই খুনের ঘটনা ঘটে।
ইতিমধ্যেই মনোজ কুমার যাদব, সুরজ এবং সুমিত কুমার নামের তিনজনকে গ্রেফতারি করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত নাবালককে আটক করা হয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে নিজেকে খুন করানোর জন্য ভাড়াটে খুনিদের কত টাকা দিয়েছিলেন ব্যবসায়ী। একইসঙ্গে পুলিশ এও বের করতে চাইছে বিমার কত টাকা তাঁর পরিবারের পাওয়ার কথা।
পুলিশের অনুমান ভাড়াটে খুনিদের সঙ্গে পুরো ব্যাপারটাই ফোনের মাধ্যমে হয়েছিল। তাই ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছবি দিয়েছিলেন ব্যবসায়ী। দিল্লি পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জেরা চলছে। আরও অজানা জিনিস প্রকাশ্যে আসবে বলেই মনে করছে পুলিশ।