দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন দিনের মাথায় দ্বিতীয়বার।
মঙ্গলবার ফের কংগ্রেস নেতা আহমেদ পটেলের দিল্লির বাড়িতে তাঁকে জেরা করতে পৌঁছলেন কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডির গোয়েন্দারা। গত ২৭ জুন গুজরাত থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদের বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন ইডি কর্তারা। তাঁকে আট ঘণ্টা জেরা করে তদন্ত এজেন্সি। এদিন ফের তাঁরা পৌঁছে গিয়েছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতার নয়াদিল্লির ২৩ নম্বর মাদার টেরেসা ক্রেসেন্টের বাড়িতে।
স্টার্লিং বায়োটেক নামের একটি সংস্থার বিরাট অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সনিয়া গান্ধীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিককে জেরা করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এর আগে ইডি দফতরে হাজিরার জন্য আহমেদ পটেলকে সমন পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। কিন্তু লকডাউনের গাইডলাইন দেখিয়ে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা হাজিরা দেননি। তিনি ইডি আধিকারিকদের জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলেছে ৬৫ বছরের বেশি যাঁদের বয়স তাঁদের বাড়ি থেকে না বেরোতে। তাই তিনি যেতে পারবেন না। তাঁর বয়স এখন ৭০ বছর। তারপর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারাই পৌঁছে যান তাঁর বাড়িতে। এদিন দেখা যায়, ইডির তিন অফিসার হাতে ফাইল নিয়ে, মুখে মাস্ক বেঁধে আহমেদ পটেলের বাড়িতে ঢুকছেন।
তদন্ত এজেন্সি সূত্রে খবর, আর্থিক দুর্নীতি মামলায় আহমেদ পটেলের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। তিনি সর্বভারতীয় কংগ্রেসের অন্যতম ক্ষমতাশালী নেতা। দলের কোষাধক্ষ্য ছাড়াও তিনি কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্বে রিয়েছেন।
অভিযোগ, গুজরাতের ভদোদরার ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা স্টার্লিং বায়োটেক ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল অন্ধ্র ব্যাঙ্ক থেকে। সেই টাকা শোধ তো করেইনি ওই সংস্থা উপরি তিন কর্ণধার নীতীন জয়ন্তীলাল সন্দেসারা, চেতন কুমার জয়ন্তীলাল সন্দেসারা এবং দীপ্তি সন্দেসারা পলাতক। নীতিন এবং চেতন দুই ভাই। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, নীতিন, চেতন কুমার দীপ্তি—এই তিন জনই আপাতত আলবেনিয়ায় রয়েছেন। মূলত সন্দেসারা ব্রাদার্সদের কোম্পানি হিসেবেই গুজরাতে নাম রয়েছে স্টার্লিং বায়োটেকের।
তদন্ত এজেন্সির মতে, মেহুল চোকসি, নীরব মোদীদের পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারির থেকেও বড় দুর্নীতি হয়েছে এক্ষেত্রে। শুধু ইডি নয়। সন্দেসারাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে সিবিআই এবং ইনকাম ট্যাক্সও। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সন্দেসারা ব্রাদার্সদের সঙ্গে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতাদের যোগাযোগ ছিল। মনে করা হচ্ছে, সেই কারণেই প্রবীণ কংগ্রেস নেতাকে জেরা করা হচ্ছে।