দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘অপরাধ’ বলতে স্কুলের নাটকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা। অভিযোগ, ওই নাটকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও অপমান করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা এবং এক ছাত্রের মাকে গ্রেফতার করেছিল কর্ণাটকের বিদার পুলিশ। কিন্তু তাতেও থামল না তদন্ত। এর মূলে কে তা বের করতে ক্লাস সিক্সের দুই পড়ুয়াকে টানা পাঁচঘণ্টা জেরা করল পুলিশ।
গত ২১ জানুয়ারি বিদারের শাহিন স্কুলে একটি নাটক অনুষ্ঠিত হয়। মূলত পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীরা এই নাটকে অংশ নেয়। সেখানেই নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বিরোধিতা করতে গিয়ে দেশবিরোধী মন্তব্য ও মোদীকে অপমান করার অভিযোগ ওঠে। নাটকটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার পর নীলেশ নামের এক সমাজকর্মী বিদার থানায় অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই নাটকে মোদীকে অপমান করা হয়েছে। এর প্রভাব এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার উপর পড়তে পারে।
এই অভিযোগ পেয়েই তিনদিন বিদার থানার পুলিশ সেই স্কুলে গিয়ে নাটকের ভিডিও দেখে। স্কুলের সব শিক্ষিকা, কর্মী ও ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবককে জেরা করেন পুলিশ আধিকারিকরা। তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় স্কুলের কন্ট্রোল রুমে। তারপর গত শুক্রবার স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা বেগম ও ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর মা নাজিবুন্নিসাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁরা জামিনও পান। কিন্তু এখানেই থামল না পুলিশ। আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত শুরু করল বিদার থানা।
শাহিন গ্রুপের সিইও তৌসিফ মাদিকেরি জানিয়েছেন, কেন পুলিশ আধিকারিকরা শিশুদের চাপ দিচ্ছেন জানি না। এতে ওরা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে। সমস্ত দায় স্কুল কর্তৃপক্ষের। আমরা অনুরোধ করেছি, যাতে ছাত্রছাত্রীদের না জড়ানো হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, স্কুলের অন্য অভিভাবিকারা জানিয়েছেন, নাটকের প্রাথমিক চিত্রনাট্যে কোনও সিএএ বিরোধী বা মোদী বিরোধী কিছু ছিল না। সামাজিক নাটককে রাজনৈতিক করেছেন একজন অভিভাবক। নাজিবুন্নিসা নিজেই জোর করে এই লাইনগুলি ঢোকান বলে মনে করছে পুলিশ। এই কাজকে সমর্থন করেন প্রধান শিক্ষিকা।
পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের মনে কোনও চাপ তৈরি করতে জেরা করা হয়নি। প্রশাসন খতিয়ে দেখতে চাইছে এর পিছনে আসলে কারা রয়েছে। যদিও শিশুদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা করা নয়ে একাধিক মানবাধিকার সংগঠন কর্ণাটক পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।