
শেষ আপডেট: 3 June 2020 04:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইএনএক্স মিডিয়া দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ওই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত তাঁর ছেলে কার্তি চিদম্বরমের বিরুদ্ধেও চার্জশিট দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি।
ইডি সূত্রে খবর, আপাতত ই-চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। লকডাউন পুরোপুরি উঠলে, আদালতের কাজকর্ম স্বাভাবিক হলে দস্তাবেজ জমা দেওয়া হবে আদালতে। এর আগে আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় সিবিআই গ্রেফতার করেছিল বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতাকে। অভিযোগ ছিল, ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে বিদেশে বিনিয়োগে ছাড়পত্র দিয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির অভিযোগ, প্রথম ইউপিএ সরকারের অর্থমন্ত্রী থাকার সময়ে আইএনএক্স মিডিয়ার কর্ণধার পিটার মুখোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়ের থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন চিদম্বরম। তার বিনিময়ে বিদেশি বিনিয়োগে ছাড় দিয়েছিলেন বেআইনি ভাবে। অর্থমন্ত্রীর ক্ষমতা ব্যবহার করে চিদম্বরম তা করেছিলেন বলে অভিযোগ। যদিও কংগ্রেসের তরফে বারবারই বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নির্লজ্জ কায়দায় ব্যবহার করছে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ। ইডির অভিযোগ, চিদম্বরম এবং তাঁর ছেলে কার্তি মিলে পিটার-ইন্দ্রাণীদের সাহায্যে ভারত ছাড়াও ব্রিটেন এবং স্পেনে সম্পত্তি কিনেছেন। গত বছর অগস্ট মাসে রুদ্ধশ্বাস অপারেশন চালিয়ে নিজের বাড়ি থেকে চিদম্বরমকে গ্রেফতার করে সিবিআই। পাঁচিল টপকে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর বাড়িতে ঢোকেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। নাটকীয় সেই গ্রেফতারির পুরোটা ঘটে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে। দফায় দফায় সিবিআই হেফাজতের পর প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর জেল হেফাজত পর্ব চলে। তিহাড় জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। ওই একই মামলায় ১৬ অক্টোবর চিদম্বরমকে হেফাজতে নেয় ইডি। তিন মাসের বেশি সময় বন্দি থাকার পর গত ডিসেম্বর মাসে জামিন পান চিদম্বরম। জেলে থাকা অবস্থাতেও দেশের অর্থনীতি নিয়ে নিয়মিত টুইট করিয়েছেন পরিবারের লোকজনকে দিয়ে। একবার জেলবন্দি চিদম্বরমের টুইটার হ্যান্ডল থেকে লেখা হয়, "আমি নিজেকে নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নই। বরং দেশের অর্থনীতির অবস্থা দেখে আমি গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন।" প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীকে সিবিআই গ্রেফতার করার পর প্রধানমন্ত্রী একটি দলীয় জনসভায় বলেছিলেন, "পিকচার আভি বাকি হ্যায়!" সেই সময়েও কংগ্রেস বলেছিল, বিজেপি হিংস্র হয়ে তদন্ত এজেন্সিকে ব্যবহার করছে।" ন'মাস পর ওই মামলায় চার্জশিট দিল ইডি।