মেট্রোয় মানতে হবে একাধিক নিয়ম, গাইডলাইন প্রকাশ কেন্দ্রের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনলক ৪ পর্যায়ে শুরু হচ্ছে মেট্রো পরিষেবা। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে পরিষেবা। কিন্তু বাংলায় সেদিন লকডাউন থাকায় ৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরিষেবা শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে পরিষেবা শুরু হলেও মানতে হবে
শেষ আপডেট: 2 September 2020 17:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনলক ৪ পর্যায়ে শুরু হচ্ছে মেট্রো পরিষেবা। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে পরিষেবা। কিন্তু বাংলায় সেদিন লকডাউন থাকায় ৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরিষেবা শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে পরিষেবা শুরু হলেও মানতে হবে একাধিক নিয়ম। যাত্রীদের ও মেট্রো কর্তৃপক্ষের জন্য গাইডলাইন প্রকাশ করল কেন্দ্র।
কেন্দ্রের তরফে প্রকাশিত এই গাইডলাইনে যে বিষয়গুলির উপর নজর দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল-
- মেট্রো স্টেশনে ঢোকার আগেই সব যাত্রীকে হাত স্যানিটাইজ করতে হবে। থার্মাল স্ক্রিনিং করে দেখা হবে। যদি কারও শরীরের তাপমাত্রা বেশি হয়, তাকে স্টেশনে ঢুকতে দেওয়া হবে না। মেট্রোয় ওঠার আগে ফের হাত স্যানিটাইজ করতে হবে প্রত্যেককে।
- একটি স্টেশনের দু’দিকে অর্থাৎ আপ ও ডাউন স্টেশনে যাতে একসঙ্গে মেট্রো না ঢোকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ সেক্ষেত্রে একসঙ্গে স্টেশনে যাত্রীর সঙ্গে বেড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সিগন্যালিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ট্রেনের স্টেশনে ঢোকা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
- যদি কোনও স্টেশন কনটেইনমেন্ট জোনের মধ্যে থাকে তাহলে সেই স্টেশন বন্ধ থাকবে। এই খবর গণমাধ্যমে জানিয়ে দিতে হবে।
- দুটি মেট্রোর মধ্যে সময়ের ব্যবধান নির্দিষ্ট করতে হবে। যাতে স্টেশনে বেশি যাত্রী একসঙ্গে না থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। তার জন্য দরকারে যাত্রীদের বাইরে আটকে রাখতে হবে। সবটার উপর নজর রাখা হবে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে।
- কতগুলি মেট্রো চলবে তা যাত্রীদের চাহিদার উপর ঠিক করতে হবে। কিন্তু যত মেট্রো চলুক, সময়ের ব্যবধান নির্দিষ্ট রাখতে হবে। একসঙ্গে যাতে কোনওভাবেই ভিড় না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
- দুটি সিটের মধ্যে একটি জায়গা ফাঁকা থাকবে। দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব করতে হবে। ট্রেনের মধ্যে থাকা ক্যামেরার মাধ্যমে সেদিকে নজর রাখতে হবে কর্মীদের। প্রতিটি যাত্রী ফোনে আরোগ্য সেতু অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে।
- এসি রেকের ক্ষেত্রে ভিতরের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট রাখতে হবে। প্রয়োজনে স্টেশনে কিছুক্ষণ দরজা খোলা রেখে ভিতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। কিন্তু তা যেন ২৪ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে।
- মেট্রোর কর্মীদেরও নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। তাদের সবসময় পিপিই কিট ও মাস্ক পরতে হবে। প্রতিদিন তাদেরও থার্মাল স্ক্রিনিং করে দেখা হবে। প্রয়োজনে নমুনা পরীক্ষাও করা যেতে পারে।
কলকাতা মেট্রোর ক্ষেত্রে অবশ্য ইতিমধ্যেই মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিষেবা চালু হলেও এখনই সবাই মেট্রোর সুবিধা নিতে পারবেন না। কারণ, টিকিট বা টোকেন সিস্টেম আপাতত থাকছে না মেট্রোতে। শুধুমাত্র স্মার্ট কার্ড যাঁদের রয়েছে তাঁরাই যাতায়াত করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। রবিবার কলকাতা মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “এই মুহূর্তে আমরা টোকেন সিস্টেম রাখছি না। কারণ, টোকেন সিস্টেম থাকলেই লাইন দিয়ে টিকিট কাটতে হবে। ফলে ভিড় বাড়বে। এতে সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই শুধুমাত্র স্মার্ট কার্ড ব্যবহারকারীরাই যাতায়াত করতে পারবেন।”
কিছুদিনের মধ্যেই একটা নতুন অ্যাপ মেট্রো রেল আনতে চলেছে বলেও জানিয়েছেন ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমরা শিগগির একটা অ্যাপ নিয়ে আসছি। গুগলের প্লে স্টোর থেকে এই অ্যাপ ইনস্টল করা যাবে। এই অ্যাপ ব্যবহার করেই স্মার্ট কার্ডে টাকা ভরা যাবে। বাকি কেন্দ্রের স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী অন্যান্য নির্দেশিকা জারি হবে।”