দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে দেওয়ার পর থেকেই বিরোধী দলগুলি বলতে শুরু করে, নাগরিক জীবনে বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। অভিযোগ তুলতে থাকে,মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে প্রতিদিন, বন্দুকের শাসন চলছে। রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন। শুধু উড়িয়েই দিলেন না, একই সঙ্গে বললেন, কাশ্মীরে কোনও বিধিনিষেধই নেই। সব বিধিনিষেধ বিরোধীদের মনে।
এ দিন জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি সেমিনারে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বিজেপি সভাপতি বলেন, “কাশ্মীরে কী বিধিনিষেধ চলছে? কোনও বিধিনিষেধ নেই উপত্যকায়। সব বিধিনিষেধ আসলে তোমাদের মনে।” বিরোধীরা বিধিনিষেধ আরোপ করা নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শাহ।
তথ্য দিয়ে শাহ বলেন, “কাশ্মীরের ১৯৬টি থানা এলাকা থেকে সাময়িক বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করছ। ৯টি থানা এলাকায় এখনও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে তা শিগগিরই তুলে নেওয়া হবে।”
গত মাসের শুরু থেকেই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় গোটা উপত্যকা জুড়ে। তারপর ৫ ও ৬ অগস্ট সংসদের দুই কক্ষে পেশ করা হয় কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল। একই সঙ্গে অবলুপ্ত করা হয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা। সেই সময় থেকেই কাশ্মীরের ল্যান্ডলাইন পরিষেবা এবং ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। সতর্কতামূলক গ্রেফতার করা হয় মেহেবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লাহের মতো ৪০০-র বেশি বিরোধী নেতাকে। রাহুল গান্ধীদের কাশ্মীরে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। ফিরিয়ে দেওয়া হয় শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকেই। একমাত্র সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে দলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইউসুফ তারিগামির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে তাঁর বাড়িতে যান। তখন থেকেই বিরোধীদের অভিযোগ, কাশ্মীরে নাগরিক জীবন বিপর্যস্ত। সরকার বলপ্রয়োগ করে সব করছে।
এ দিন শাহ বলেন, নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিবেশনের জন্য সারা দুনিয়ার রাষ্ট্রনায়করা জড়ো হয়েছিলেন। সাত দিন তাঁরা সেখানে ছিলেন। একটা দেশও এই ইস্যুতে সরব হয়েছে? কেউ বলেছে, কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে?” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ দিন স্পষ্ট করে বলেন, “কাশ্মীরে যা করা হয়েছে বা হচ্ছে, তা কাশ্মীরকে আরও শক্তিশালী করার জন্যই। এবং সরকার এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।”