আরও বিপাকে কুণাল কামরা, অর্ণব কাণ্ডে ইন্ডিগোর পর নিষেধাজ্ঞা স্পাইসজেট, এয়ার ইন্ডিয়ার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমানের মধ্যেই সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীকে নিয়ে নানারকমের মন্তব্য করেছিলেন স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরা। সেই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে। তারপরে বিমানের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটায় পদক্ষেপ নিয়েছিল ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স
শেষ আপডেট: 29 January 2020 08:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমানের মধ্যেই সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীকে নিয়ে নানারকমের মন্তব্য করেছিলেন স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরা। সেই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে। তারপরে বিমানের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটায় পদক্ষেপ নিয়েছিল ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স। কুণাল কামরাকে ৬ মাসের জন্য তাঁদের বিমানে ওঠায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ওই বিমান সংস্থা। কিন্তু কুণালের জন্য বিমানে ওঠার নিষেধাজ্ঞা শুধু ইন্ডিগোতেই আটকে রইল না।
এয়ার ইন্ডিয়া ও স্পাই স জেটের তরফেও বলা হয়েছে পরবর্তী নোটিস না দেওয়া পর্যন্ত কুণাল্কে তাদের বিমানেও উঠতে দেওয়কা হবে না। ইন্ডিগো তবু নির্দিষ্ট একটি সময় বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু স্পাইস জেট ও এয়ার ইন্ডিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য এই কৌতূক শিল্পীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বোর্ডে সহযাত্রীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের কারণ দেখিয়েই এই সংস্থাগুলি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
https://twitter.com/airindiain/status/1222205030427578369
মঙ্গলবার ইন্ডিগোর তরফে টুইট করে একথা জানানো হয়। টুইটে লেখা হয়, “বিমানের মধ্যে অন্য এক যাত্রীর সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করার জন্য কুণাল কামরাকে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের ব্যবহার কোনও মতেই মেনে নেওয়া যায় না।” ইন্ডিগোর করা এই টুইটের পরে অসামরিক বিমানমন্ত্রী হরদীপ পুরীও টুইট করে বলেন, “এই ধরনের অশালীন ব্যবহার বিমানের মধ্যে অশান্তির সৃষ্টি করতে পারে। সেক্ষেত্রে যাত্রী সুরক্ষার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। এই ধরনের মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না। আমি অন্য বিমানসংস্থাগুলির কাছেও অনুরোধ করছি, কুণাল কামরার বিরুদ্ধে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য।”
https://twitter.com/flyspicejet/status/1222399830623846401
এই নিষেধাজ্ঞার পর তাকে নিয়েও কটাক্ষ করেছেন কুণাল কামরা। ইন্ডিগোর টুইটের পর তিনি টুইট করে জানান, “আমাকে ৬ মাসের জন্য সাসপেন্ড করায় ইন্ডিগোকে ধন্যবাদ। এটা খুব দয়ালু একটা সিদ্ধান্ত। আশা করছি মোদীজি এয়ার ইন্ডিয়াকে বরাবরের জন্য বন্ধ করে দেবেন।”
ঠিক কী হয়েছিল বিমানের মধ্যে? এই ঘটনার পর টুইটে সেকথা নিজেই লিখেছেন কুণাল।
কুণাল টুইট করে বলেন, “বিমানে যাওয়ার সময় আমি অর্ণব গোস্বামীকে দেখি। আমি ওর সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু উনি ফোনে ব্যস্ত ছিলেন। তাই আমি অপেক্ষা করি। তারপর ওনার সাংবাদিকতা আমার কেমন লাগে সে ব্যাপারে আমি কিছু কথা বলি। কিন্তু উনি আমার সঙ্গে কথা বলতে চাননি। আমাকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলেন উনি। তাই আমি ওনার ব্যাপারে কিছু কথা বলি। ওনার কানে হেডফোন ছিল। ওনার শো’তে যেভাবে সবার সঙ্গে কথা বলা হয়, সেভাবেই কথা বলছিলাম আমি। তারপর অবশ্য বিমানকর্মীরা আমাকে বললে আমি নিজের সিটে এসে বসি। আমি প্রত্যেক বিমানকর্মী ও পাইলটের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। অন্য যাত্রীদের কাছেও ক্ষমা চাইছি। কিন্তু একজনের কাছে নয়।”
পরে আর একটি টুইট করে কুণাল বলেন, এই কাজ তিনি করেছেন তাঁর হিরো রোহিত ভেমুলার জন্য। জাতপাতের বৈষম্যের শিকার হয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন হায়দরাবাদের দলিত ছাত্র রোহিত। তার আগে একটি সুইসাইড নোটে এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন তিনি। এই ঘটনার পরে নিজের শোয়ে রোহিত ভেমুলার মায়ের জাতপাত নিয়ে কথা বলেন অর্ণব গোস্বামী। সেই প্রসঙ্গকেই তুলে আনেন কুণাল।
যদিও এই পুরো ঘটনার ব্যাপারে বা ইন্ডিগোর পদক্ষেপের পর অর্ণব গোস্বামীর তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।