দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রীয় জনতা দল সুপ্রিমো তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের ৯ নিরাপত্তারক্ষী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। শুক্রবার তাঁদের প্রত্যেকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এই খবরে কিছুটা হলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিহারের রাজনীতিতে।
এই মুহূর্তে কেলি ডিরেক্টরস বাংলোতে রয়েছেন ৭২ বছরের লালুপ্রসাদ যাদব। কয়েক দিন আগে রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস ভর্তি ছিলেন লালুপ্রসাদ। তারপরেই সেখান থেকে এই বাংলোতে এনে রাখা হয়েছে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে।
জানা গিয়েছে বাংলোর বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৯ নিরাপত্তারক্ষীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। পুরো ঘটনার কথা জানানো হয়েছে রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিবেক কাশ্যপকে। তিনি জানিয়েছেন, ৯ নিরাপত্তারক্ষীকেই তাঁদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গায় অন্য নিরাপত্তারক্ষীদের মোতায়েন করা হবে।
বিবেক কাশ্যপ জানিয়েছেন, লালুপ্রসাদের শরীর নিয়ে কোনও ঝুঁকি তাঁরা নেবেন না। পুরো ঘটনা রাঁচির জেলাশাসককে জানানো হয়েছে। আরজেডি সুপ্রিমো যাতে কোনও ভাবেই সংক্রমণের কবলে না পড়েন, সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। তাঁর নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হতে পারে বলেই সূত্রের খবর।
প্রাক্তন রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করছেন। ২০১৭ সালের শেষদিক থেকে রাঁচির সেন্ট্রাল জেলে ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই শারীরিক অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় লালুপ্রসাদকে।
কিছুদিন আগে জানা যায়, হাসপাতালে লালুর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক উমেশ প্রসাদের অন্য আর এক রোগী করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এর পরে ওই হাসপাতালের সমস্ত স্টাফ এবং চিকিৎসকদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। লালুর চিকিৎসক উমেশ প্রসাদ-সহ হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসককে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়।
তারপরে ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বন্না গুপ্ত বলেন, লালুপ্রসাদ পুরোপুরি নিরাপদে আছেন। তাঁর করোনা সংক্রমণের কোনও সম্ভাবনা নেই। তেজস্বী যাদব টুইট করে বলেছেন, ৭২ বছর বয়সের লালুপ্রসাদ নানা রোগে আক্রান্ত। এই সময়ে তাঁর নিরাপদে থাকা দরকার।
বর্তমান পরিস্থিতিতে লালুপ্রসাদকে জেল থেকে বের করার দাবিতে আগেই সরব হয়েছে তাঁর দল আরজেডি। এই পরিস্থিতিতে লালুপ্রসাদের মতো ভিআইপিকে হাসপাতালে রাখা ঠিক নয়, এই দাবি তুলে তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার দাবি তুলছেন তেজস্বী যাদবরা। ঝাড়খণ্ড সরকারও বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবছে বলে এই মাসের গোড়ার দিকেই জানা যায়। লালুপ্রসাদকে কীভাবে মুক্তি দেওয়া যায় তা নিয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের পরামর্শও চেয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।