দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার একটি মসজিদে তবলিঘি জামাতের জমায়েতের পরে এই সংক্রমণ হঠাৎ করেই বেড়েছে। ভারতে বর্তমানে মোট করোনা আক্রান্তের প্রায় ৩০ শতাংশই এই জামাতের জমায়েত থেকে বলে জানাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল এই কথা জানান। তিনি বলেন, “ভারতে এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৩৭৮। তার মধ্যে ৪২৯১ জন অর্থাৎ ২৯.৮ শতাংশ শুধুমাত্র নিজামুদ্দিন এলাকার ওই জমায়েত থেকে হয়েছে।” এই জমায়েত না হলে ভারতে এই মুহূর্তে কোভিড ১৯ সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকত বলেও জানিয়েছেন লব আগরওয়াল।
এর আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছিল, জামাতের জমায়েতের ফলে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে মাত্র ৩ দিন। সেটা হওয়ার কথা ছিল ৭ দিনে। অর্থাৎ এই জমায়েতের জন্যই হু হু করে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা।
দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার বেশ কিছুদিন পরে এই তবলিঘি জামাতের জমায়েতের ব্যাপার সামনে আসে। জানা যায়, মার্চ মাসে সেখানে দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার জামাত সদস্য জড়ো হয়েছিল। এমনকি নিজামুদ্দিন এলাকায় একটা ছ’তলা বাড়িতে সবাইকে বেশ কয়েক দিন ধরে রাখা হয়। সেখান থেকে কোভিড ১৯ সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল নিজে দায়িত্ব নিয়ে সবাইকে সেখান থেকে বের করে আনেন।
এই জমায়েত থেকে অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফিরে যায়। ফলে সেইসব রাজ্যেও ছড়াতে থাকে সংক্রমণ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে সব রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়, জমায়েতে যোগ দেওয়া সদস্যদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনে রাখার। সেই কাজে অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয় রাজ্যগুলিকে। অসমের মতো রাজ্যে রীতিমতো মামলা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় প্রশাসনের তরফে।
এদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল এখনও পর্যন্ত ৪২৯১ জন জামাত সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তবে এখনও অনেকেই দিল্লি ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। ফলে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।