হাথরাসের পর ভাদোহী, ইঁট দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন দলিত নাবালিকাকে, ধর্ষণের অভিযোগ পরিবারের
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ফের একবার ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ উঠল যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে। এমনিতেই যখন হাথরাসে দলিত তরুণীর গণধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল দেশ, তখন ভাদোহীতে এক দলিত নাবালিকার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হল। ইঁট দিয়ে মাথা থেঁতলে তাকে খুন করা হ
শেষ আপডেট: 2 October 2020 01:30
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ফের একবার ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ উঠল যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে। এমনিতেই যখন হাথরাসে দলিত তরুণীর গণধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল দেশ, তখন ভাদোহীতে এক দলিত নাবালিকার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হল। ইঁট দিয়ে মাথা থেঁতলে তাকে খুন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের দাবি, ধর্ষণ করার পরে খুন করা হয়েছে নাবালিকাকে।
নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার শৌচের কাজে ক্ষেতে গিয়েছিল সে। অনেকক্ষণ বাড়ি না ফেরায় তাঁরা খোঁজ শুরু করেন। তখনই ক্ষেত্রে মধ্যে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দেহটি প্রথমে দেখতে পায় নাবালিকার ভাই। সে বাকিদের খবর দেয়। তার মাথা ইঁট দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল। ধর্ষণের পরে মুখ বন্ধ করার জন্যই নাবালিকাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
রাম বদন সিং নামে স্থানীয় থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “দেখে মনে হচ্ছে ধর্ষণের পরেই নাবালিকাকে খুন করা হয়েছে। কারণ নাহলে খুনের অন্য কোনও কারণ নেই। তার বয়স ১৪ বছর। কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল না তার। অবশ্য ময়নাতদন্তের পরেই ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা তা প্রমাণিত হবে।”
কারা এই ঘটনার পিছনে রয়েছে সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে তারা।
কয়েক দিন আগেই হাথরাসে এক দলিত তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা সামনে আসে। নৃশংসভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল তাঁর উপর। কামড়ে ছিঁড়ে নেওয়া হয় জিভ। গত সোমবার মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও তরুণীর মৃত্যুর পরে তাঁর দেহ পরিবারের হাতে না দিয়ে জোর করে পুড়িয়ে দেয় পুলিশ। এই নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল দেশ।
হাথরাসের ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, নির্যাতিতা তরুণীর গলার কাছের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা তিন জন ডাক্তারই বলেছেন, গলা টিপে প্রথমে মারার চেষ্টা হয়। পরে দড়ি বা কাপড় পেঁচিয়ে বারে বারে ফাঁস দেওয়া হয় গলায়। তার কারণ একাধিক ফাঁসের দাগ ছিল মেয়েটির গলার চারপাশে। ফাঁসের দড়ি বা কাপড় টাইট করে পেঁচিয়ে দমবন্ধ করে খুন করার চেষ্টা করে অপরাধীরা। এই প্যাঁচের কারণেই মেয়েটির গলার কাছের হাড় ভেঙে যায়। ঘাড় বেঁকে যায়। মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। সারা শরীরে কালশিটের দাগ ছিল তাঁর। আঘাত ছিল গোপনাঙ্গেও।
এই ঘটনার পরেই বিক্ষোভ শুরু করেছে কংগ্রেস। এদিন হাথরাসে যাওয়ার পথে গ্রেফতার করা হয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে। আটক হন প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও। কিছুক্ষণ পরে তাঁদের দিল্লিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরে ভাদোহীর ঘটনা সামনে আসায় ফের টুইট করা হয়েছে কংগ্রেসের তরফে। তাদের অভিযোগ, “বিজেপি শাসনে এই নৃশংসতার কি কোনও শেষ নেই? প্রধানমন্ত্রীর কেন্দ্র থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে আর এক নাবালিকার উপর অত্যাচার হল। মুখ্যমন্ত্রীর উচিত পদত্যাগ করা।”