দ্য ওয়াল ব্যরোঃ করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের মধ্যে একেবারে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছেন তাঁরা। আর তা করতে গিয়ে সংক্রামিত হয়েছেন দু’হাজারের বেশি পুলিশকর্মী। মৃত্যুও হয়েছে বেশ কয়েকজনের। আর পুলিশের এই ২৪ ঘণ্টা ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে কিনা পুলিশের ঘরেই নির্বিচারে চুরি করেছে চোর। অবশেষে ধরা পড়েছে সে।
করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের মাঝে দায়িত্ব অনেক বেশি ছিল পুলিশকর্মীদের। দিন-রাত এক করে কাজ করেছেন তাঁরা। তবে এই সময় কাজের ধরনের অনেক তফাত ছিল। লকডাউনের সময় রাস্তায় গাড়ি খুব কম থাকায় বা প্রথম কয়েক মাস গণপরিবহণ না চলায় ট্রাফিক পুলিশের কাজ ছিল অনেক কম। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিশেষ কাজ না থাকায় কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক কিয়স্ক গুলো অনেক সময় ফাঁকা থাকত।
এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছিল চোর। কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় পুলিশ কিয়স্কগুলিতে চুরি চালাচ্ছিল সে। কিয়স্কের মধ্যে থাকা চেয়ার, ফ্যান, লাইট চুরি যাচ্ছিল। প্রথমের দিকে ব্যাপারটা অত নজরে না পড়লেও ধীরে ধীরে তা পুলিশের নজরে পড়ে। দেখা যায় সেন্ট্রাল কলকাতা, ময়দান ডিভিশন, বন্দর এলাকা সব জায়গায় ঘটেছে এই চুরির ঘটনা।
কে এই চুরি করছে, তা নিয়ে তক্কে তক্কে ছিল পুলিশ। অবশেষে চোরের খোঁজ মেলে হেস্টিংস এলাকা থেকে। তার নাম শেখ আফরোজ। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। জেরায় আফরোজ স্বীকার করেছে লকডাউনের সময় কিয়স্কে পুলিশ না থাকায় সেই সুযোগ চুরি করেছে সে। এক একদিন এক এক এলাকার কিয়স্কে গিয়ে সে চুরি করত।
এই ঘটনায় কিছুটা হলেও হাসির উদ্রেক হয়েছে পুলিশ মহলে। কেউ বলছেন, যাদের উপর চুরি আটকানোর দায়িত্ব থাকে তাদের নাকের ডগায় পুলিশ কিয়স্ক থেকেই কিনা সামগ্রি চুরি হচ্ছিল। কেউ আবার রসিকতা করে বলছেন, লকডাউনে সবাই বাড়িতেই রয়েছেন। তাই ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে সেখানে চুরি করতে পারছিল না আফরোজ। তাই পুলিশ কিয়স্ককেই নিজের নিশানা বানিয়েছিল সে।