দ্য ওয়াল ব্যুরো: সৌদি আরবের রাজ পরিবারের দেড়শো জনের কাছাকাছি সদস্য নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটির শাসক পরিবারের চিকিৎসা সাধারণত যে হাসপাতালে করা হয় সেই হাসপাতালে ৫০০টি শয্যা আলাদা করে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ খবর জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
সৌদির রাজা সলমন ও বাস্তবে যিনি রাজকাজ পরিচালনা করেন সেই যুবরাজ মহম্মদ বিন-সলমন অবশ্য আক্রান্তদের তালিকায় নেই বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরের একটি দ্বীপের উপরে থাকা প্রাসাদে নিজেকে আইসোলেশনে রেখেছেন সৌদি আরবের রাজা সলমন। যুবরাজ মহম্মদ বিন-সলমন তাঁর সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে আলাদা রয়েছেন। জানা গেছে ভবিষ্যতে নগর পত্তনের পরিকল্পনা রয়েছে এমন জায়গায় এখন তাঁরা রয়েছেন।
একটি বিবৃতিতে ওই হাসপাতাল আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে যে রাজপরিবার থেকে এই ধরনের কত জন রোগী তাঁদের কাছে আসবেন সে ব্যাপারে তাঁদের কোনও ধারনা নেই। তাই হাসপাতালের পাঁচশোটি শয্যা প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সেখানে ভর্তি থাকা সব রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে রাজ পরিবারের সদস্য তথা রিয়াধ শহরের শাসকও (গভর্নর) করোনা আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন। তাঁকেও ইন্টেনসিভ কেয়ারে রাখা হয়েছে।
করোনাভাইরাস কাউকেই ছাড়ছে না। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তিন দিন ধরে লন্ডনের হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন। ইরানের মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যও এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এর আগে আক্রান্ত হয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আমেরিকার এক প্রোথিতযথা গায়কের। সৌদি আরবে এখনও পর্যন্ত ৩,৩০০ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। তার মধ্যে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২ মার্চ থেকে সৌদি আরবে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মক্কা ও মদিনা শহরে তীর্থ করতে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে এবার হজও বন্ধ করে দিতে পারে সৌদি সরকার। ১৭৯৮ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে হজ যাত্রা হয়ে আসছে।