দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ফের যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করল পাক সেনা। বুধবার সকালে রাজৌরি জেলার তারকুন্ডি সেক্টরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ বর্ষণ এবং মর্টার শেলিংয়ের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় সেনার এক আধিকারিকের।
রাজৌরি জেলার তারকুন্ডি এবং কেরি সেক্টর বরাবর আচমকাই আজ সকালেই গুলি ছুড়তে শুরু করে পাক সেনা। তারকুন্ডি সেক্টরেই ফরওয়ার্ড পোস্টে দায়িত্বে ছিলেন শহিদ অফিসার। পাকিস্তানের হামলার জবাবে পাল্টা গুলি চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনীও। দু'পক্ষের গুলির লড়াইয়ে শহিদ হয়েছেন জুনিয়র কমিশনড অফিসার রাজবিন্দর সিং। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে তিনি পঞ্জাবের অমৃতসরের বাসিন্দা।
গত কয়েকদিন ধরে অশান্ত হয়ে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবরও ক্রমশ হামলা বাড়ছে। চলতি বছরে একাধিক বার যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গত রবিবার যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সীমান্ত বরাবর পাক সেনার অবিরাম গুলিবৃষ্টি এবং মর্টার শেলিংয়ের ফলে নিহত হন একজন জুনিয়র কমিশনড অফিসার (জেসিও)।
গত ৩০ অগস্ট রবিবার সকালে জম্মু ডিভিশনের রাজৌরি জেলায় নৌশেরা সেক্টর বরাবর গোলাগুলি ছুড়তে শুরু করে পাক সেনা। মূলত কালসিয়ান, খানগের এবং ভবানী এলাকায় যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পাক সেনাবাহিনী। সেনা সূত্রে খবর, কালসিয়ান এলাকাতেই গুলিবিদ্ধ হন ওই অফিসার। গুরুতর আহত অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সেনা হাসপাতালে। সেখানেই কিছুক্ষণ পর মৃত্যু হয় তাঁর।
অন্যদিকে গতকাল অর্থাৎ সোমবার গ্রেনেড হামলায় অশান্তি ছড়িয়েছিল জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুলা জেলায়। সূত্রের খবর, সেনাবাহিনীর একটি গাড়িকে নিশানা করে গ্রেনেড ছোড়ে জঙ্গিরা। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে রাস্তার উপরেই ফেটে যায় গ্রেনেড। আহত হন সেই সময় ওই এলাকায় থাকা সাধারণ নাগরিকরা। জানা গিয়েছে, আহত হন মোট ৬ জন। সেনাবাহিনীর তরফেই তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনার আগে দিন অর্থাৎ গত রবিবার গ্রেনেড হামলা হয়েছিল এই বারামুলা জেলাতেই। সোপোর এলাকায় একটি পুলিশ পোস্টকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়ে জঙ্গিরা। পাল্টা গুলি চালান চেক পোস্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা। সেদিন রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ উত্তর কাশ্মীরের বারামুলা জেলার সোপোর এলাকায় ওয়ারপোরা পুলিশ পোস্টকে নিশানা করে গ্রেনেড ছোড়ে জঙ্গিরা। তবে এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।